যুবদল নেতার হামলায় আরেক শিবির নেতা সংকটাপন্ন, নেওয়া হয়েছে আইসিইউতে
গাইবান্ধার সাঘাটায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যায় জড়িতদের হামলায় গুরুতর আহত সালাউদ্দিন নামের আরেক শিবির নেতার অবস্থা এখন সংকটাপন্ন। তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।
গত রোববার যুবদল ও বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় গুরুতর জখম হন সালাউদ্দিন। হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা তার পিঠের ডান দিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে অত্যন্ত গভীর ক্ষত তৈরি করেছে, যার আঘাত সরাসরি ফুসফুস পর্যন্ত পৌঁছেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ সামাল দিতে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জরুরি অস্ত্রোপচারের পর তাকে আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
শজিমেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে সালাউদ্দিনের অবস্থা স্থিতিশীল মনে হলেও সংকট এখনো কাটেনি। ফুসফুসে আঘাত থাকায় যেকোনো সময় শ্বাসকষ্টসহ জটিলতা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যেকোনো সময় ঢাকায় পাঠানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।
ইতিমধ্যে তার শরীরে চার ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে এবং আরও রক্তের প্রয়োজন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। সালাউদ্দিনের বড় ভাই আব্দুল্লাহ বলেন, “আমার ভাইয়ের ফুসফুসে গভীর জখম হয়েছে। চিকিৎসকরা বলেছেন তিনি এখনো ঝুঁকির মধ্যে আছেন। আমরা দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চাইছি।”
গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ফেরদাউস সরকার রুম্মন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “সালাউদ্দিন নির্দোষ। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়েছে। আমরা হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
উল্লেখ্য, গতকাল বিকেলে সাঘাটার বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে মুকুল, পলাশ ও আশরাফসহ কয়েকজনের হামলায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী নিহত হন এবং সালাউদ্দিন গুরুতর আহত হন।
এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পবিত্র কুমার জানান, মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
