উপস্থিতি জটিলতায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির কক্ষে তালা, পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
উপস্থিতি-সংক্রান্ত জটিলতা ও সেশনজটের প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির কক্ষে তালা দিয়েছেন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, করোনাকালসহ বিভিন্ন কারণে তাঁদের চার বছরের অনার্স সম্পন্ন করতে প্রায় ছয় বছর সময় লেগেছে। এরপর ফল প্রকাশ এবং মাস্টার্স কার্যক্রম শুরু করতেও দীর্ঘ বিলম্ব হয়েছে। একই সঙ্গে ক্লাস পরিচালনা ও উপস্থিতি গণনার পদ্ধতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহসিনা আরাবি বলেন, ‘অনার্স শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে, কিন্তু শেষ হয়েছে ২০২৬ সালে। ফল প্রকাশের পরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি ৪৫ মিনিটের ক্লাসের জন্য শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে ক্লাস পরে নেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি ক্লাসে একাধিকবার উপস্থিতি গণনা করা হচ্ছে। ফলে জরুরি কারণে এক-দুটি ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ হারাচ্ছেন।’
একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু মুসা বলেন, ‘অনার্স শেষ হওয়ার পর মাস্টার্সের কারিকুলাম প্রস্তুত না থাকায় প্রায় ছয় মাস বিলম্বে ক্লাস শুরু হয়। নভেম্বরে মাস্টার্সের ক্লাস শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ে ক্লাস না হওয়ায় একটি সেমিস্টার শেষ করতে প্রায় নয় মাস সময় লেগেছে। তাঁর অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি ক্লাস নিয়ে একাধিক ক্লাসের উপস্থিতি দেওয়া হয়েছে।’
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে বিভাগের সভাপতি রবিউল আলম বলেন, ‘কিছু শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ৬০ শতাংশের নিচে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। এ কারণেই বিভাগ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
তিনি বলেন, “আজ পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীরা দাবি জানায়, যাঁরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না, তাঁদের সুযোগ না দিলে অন্যরাও পরীক্ষা দেবে না। আমি তাদের জানিয়েছি, বিষয়টি সহকর্মীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
এ ঘটনায় বিভাগে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।