জয় দিয়ে শিরোপার মিশন শুরু লিভারপুলের
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নেমেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল আর বোর্নমাউথ। দুই দলের শক্তির পার্থক্যটা স্পষ্ট। আর্নে স্লটের দর্শনে বদলে যাওয়া লিভারপুল দাপুটে পারফরম্যান্সে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। বিপরীতে, বোর্নমাউথ ছিল পয়েন্ট টেবিলের নয় নম্বরে। খাতা-কলমের সেই পার্থক্য খুব একটা দেখা গেলো না মাঠে। রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে যদিও শেষ হাসিটা হেসেছে অলরেডরা। তবে, কিছু সময়ের জন্য হলেও স্বাগতিক গ্যালারিকে চুপ করিয়ে দিয়েছিল বোর্নমাউথ।
আজ শনিবার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাতে ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে বোর্নমাউথকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল। অলরেডদের হয়ে গোল করেছেন অভিষিক্ত এটিকিটে, কোডি গাকপো, চিয়েজা ও মোহাম্মেদ সালাহ। বোর্নমাউথের দুটি গোলই করেছেন সিমিনো।
মাঠের লড়াইয়ের বাইরে ম্যাচটি আলাদাভাবে নজর কেড়েছে। আকস্মিক সড়ক দূর্ঘটনার প্রাণ হারান লিভারপুলের চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য দিয়োগো জোটা। ম্যাচের শুরুতেই জোটার স্মরণে পালন করা হয় নীরবতা। এরপর ম্যাচে যতবারই লিভারপুলের উদযাপনের উপলক্ষ্য এসেছে, ততবারই জোটাকে স্মরণ করেছে তারা। কখনো গোল উদযাপনে জোটার জার্সি নাম্বার এঁকে আবার কখনো জোটার উদযাপন কপি করে।

গোল করে দিয়োগো জোটার জার্সি নম্বর দেখাচ্ছেন হুগো একিটিকে। ছবি : লিভারপুলের এক্স হ্যান্ডেল থেকে নেওয়া
এর বাইরেও ছিল আরেকটি ঘটনা। প্রিমিয়ার লিগের শুরুতেই দেখা মিলল বর্ণবাদী আচরণের। ম্যাচের ২৭তম মিনিটে গ্যালারি থেকে বর্ণবাদী আক্রমণ করা হয় বোর্নমাউথের সিমিনোকে নিয়ে। যে কারণে খেলা বন্ধও রাখা হয় কয়েক মিনিট।
তবে, এসব আলোচনা ছাপিয়ে মাঠে আসা দর্শকদের টানটান উত্তেজনার ম্যাচ উপহার দিয়েছে দুই দল। ১২০ গজের সবুজ মাঠে হয়েছে রোমাঞ্চ ছড়ানো লড়াই৷ হারের আগেই হার নয়, ছেড়ে কথা বলতে রাজি নয়। ম্যাচের প্রথম আধাঘন্টা এমনই ছিল। লিভারপুলের আক্রমণ আটকে দিয়ে অলরেডদের রক্ষণেও ভীতি ছড়াচ্ছিল বোর্নমাউথ।
আরও পড়ুন- টি-টোয়েন্টিতে ‘টেস্ট মুডে’ ব্যাটিং : আধুনিক ক্রিকেটে কতটা পিছিয়ে বাংলাদেশ?
অবশ্য ম্যাচের পরিসংখ্যান সেই কথা বলে না। পুরো ম্যাচে ৬১ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে গোলের জন্য ১৫টি শট নেয় লিভারপুল। এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল দশটি। বিপরীতে ৩৯ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য দশটি শট দেয় বোর্নমাউথ। যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল মাত্র তিনটি। তবে পরিসংখ্যানই সব নয়। বোর্নমাউথের লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো।
ম্যাচের শুরু থেকে দুই দলই গোল আক্রমণ আর প্রতিআক্রমণ করলেও জালের দেখা পাচ্ছিল না কোনো দল। গোলমূখে গিয়ে বারবার ফিরতে হচ্ছিল হতাশ হয়ে। ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে গিয়ে ভাঙে ডেডলক। লিভারপুলকে এগিয়ে নেন অভিষিক্ত হুগো একিটিকে। বক্সের মুখে বল বাড়ান আর্জেন্টাইন ম্যাক অ্যালিস্টার। সেই বল ধরে একিটিকে ঢুকে যান বক্সে। তার ছোট্ট পাস ডিফ্লেক্ট হয়ে আবারও চলে আসে এই ফরাসি ফরোয়ার্ডের কাছে। এবার সামনে থাকা গোলরক্ষকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অভিষেক ম্যাচেই গোলের দেখা পেলেন তিনি। সেই সঙ্গে একটি রেকর্ডও গড়েছেন। লিভারপুলের জার্সিতে ১৫তম ফুটবলার হিসেবে প্রিমিয়ার লিগের অভিষেকেই গোল পেলেন একিটিকে।
এরপর প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর জালের খোঁজ পায়নি কোনো দল। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় অলরেডরা।
বিরতি থেকে ফেরার চার মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কোডি গাকপো। এখানেও আছে একিটিকের নাম। ৩০ গজ বক্সের মাথায় পাস দেন গাকপোকে। গতির ঝলকে বল নিয়ে একটু সামনে গিয়ে মুহুর্তের মধ্যেই তিন ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে দূরের পোস্টে শট করেন হাকপো। বল গিয়ে আশ্রয় নেয় জালে।
এরপর গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে বোর্নমাউথ। জোর দেয় আক্রমণে, ফলাফলও আসে তাতে। ১২ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায় সফরকারীরা। ৬৪ মিনিটে ব্রুকসের পাস থেকে প্রথম গোল করেন সিমিনো। ৭৬ মিনিটে করেন নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করে স্বাগতিক গ্যালারিতে দুঃশ্চিন্তা বাড়িয়ে দেন সিমিনো।
সমতার দিকেই যাচ্ছিল ম্যাচ। কিন্তু ৮২তম মিনিটে সুপার সাব হয়ে মাঠে নামেন চিয়েজা। ৮৮ মিনিটে নাম লেখান লিভারপুলের জার্সিতে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম গোলে। এতেই যেনো সব আশা নিভে যায় বোর্নমাউথের। বক্সের মধ্যে থেকে বুলেট গতির ভলিতে জাল খুঁজে নেন চিয়েজা। আবারও লিড নেয় লিভারপুল।
এরপর সব শঙ্কা দূর করে দেন মোহাম্মেদ সালাহ। অলরেডদের গোলের হালি পূর্ণ করেন তিনি। ৬ মিনিট যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে বল জালে জড়ান মিশরীয় এই তারকা। এই গোলের যোগানদাতা ছিলেন এন্ডো।
এই জয়ের পরে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচ শেষে ৩ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে লিভারপুল। প্রথমে হার দেখায় সবার নিচে চলে গেলো বোর্নমাউথ।