ছাত্রীদের জন্য এখনো নিরাপদ পরিবেশ গড়ে ওঠেনি : সাদিক কায়েম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। দীর্ঘ ছয় বছর পরে আবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। রাজনৈতিক দলের বাইরেও স্বতন্ত্রভাবে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী। বলা হচ্ছে, ডাকসুর ইতিহাসে এবার সর্বোচ্চ প্রার্থী অংশগ্রহণ করছে।
এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে নারী প্রার্থীর সংখ্যাও। তবে সম্প্রতি এ সকল নারী প্রার্থীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের নেতিবাচক ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। সেসব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটে’র ভিপি প্রার্থী ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম। আজ বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দেওয়া সেই স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেছেন, এখনো ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে উঠেনি।
সাদিক কায়েম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘এবারের ডাকসুতে রাজনৈতিক বলয়ের বাইরেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী প্রার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতির হাল ধরার জন্য জুলাই প্রজন্মের এগিয়ে আসার জরুরত বিবেচনায় এটি নিঃসন্দেহে অনেক বেশি আশাব্যঞ্জক।’
রাজনীতির ভেতর কিংবা বাহিরে এখনো ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে উঠেনি বলে দাবি তার। সাদিক কায়েম লিখেছেন, ‘দুঃখজনকভাবে রাজনীতি কিংবা রাজনীতির বাইরে ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ এখনো গড়ে উঠেনি। অব্যাহত কটূক্তি, প্রোপাগাণ্ডা, বিদ্বেষমূলক প্রচার, সাইবার বুলিং ও ট্যাগিংয়ের শিকার হচ্ছেন নারীরা। তাসনিম জারা, ফাতিমা তাসনিম জুমা, সাবিকুন্নাহার তামান্না, উম্মে ছালমা থেকে ডান-বাম ঘরানার কেউই রেহাই পাচ্ছেন না এই ব্যাধি থেকে।’
সাদিক কায়েম বলেন, এই অবস্থার ফলে নারীরা রাজনীতিতে আসতে এবং নির্বাচন করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। তিনি লিখেছেন, ‘চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের সফলতার অন্যতম কারিগর আমাদের ছাত্রী বোনেরা। তাঁদের সাহসী অবদান ও দুর্নিবার নেতৃত্ব আমাদের বিজয়কে তরান্বিত করেছে। কিন্তু, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নারীরা কখনোই যথাযথভাবে অংশগ্রহণের উদ্দীপনা পাননি। এই অব্যাহত অপপ্রচারের ফলে অনেক নারী শিক্ষার্থী এখনো রাজনীতিতে ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।’
নারীদের জন্য সুন্দর একটি রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে এই ভিপি প্রার্থী লিখেছেন, ‘বিপ্লব-পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনে আমাদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার—এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা, যেখানে নারীরা মুক্তভাবে ও আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রেখেই রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন। এ যাত্রা কণ্টকমুক্ত নয়। কিন্তু, প্রতিজ্ঞা করছি, নারীদের জন্য একটি নিরাপদ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার এই পথযাত্রায় আমরা থামব না।’