মানবতার বিরুদ্ধে এই গুরুতর অপরাধের ন্যায়বিচার হতেই হবে : তারেক রহমান
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘জোরপূর্বক গুম একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে থাকে।’
শনিবার (৩০ আগস্ট) গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ‘শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে নজিরবিহীনভাবে গুমের ঘটনা ঘটেছে।’
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সাত শতাধিক মানুষকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো গুম করেছে। তার দাবি, আজ পর্যন্ত একটি ঘটনারও সুষ্ঠু তদন্ত কিংবা ন্যায়বিচার হয়নি।’
বাণীতে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘এই হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলো ছিলেন তাদের পরিবারের প্রাণপ্রিয় সদস্য। তাদের স্বপ্ন, ভালোবাসা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অদৃশ্য মানুষগুলো কোথায় আছে আমরা জানি না। তবে রেখে গিয়েছে এক মর্মান্তিক ও বেদনাবিধুর বাংলাদেশ। গুম আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত এবং আইসিসি’র রোম সনদের ৭ (২) অনুচ্ছেদে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে ‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে। এটি বাংলাদেশের জন্য আশার আলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘গুমের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানে না এবং বিচার পাওয়ার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়। এ কারণে রাষ্ট্র কর্তৃক অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’
তারেক রহমান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মানবতার বিরুদ্ধে এই গুরুতর অপরাধের ন্যায়বিচার হতেই হবে। দুনিয়াজুড়ে গুমের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।’
তিনি দলের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘বিএনপি জনগণের ভোটে সরকার গঠন করলে বাংলাদেশে যাতে আর কোনো ব্যক্তি গুমের শিকার না হয়। সে জন্য জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত আন্তর্জাতিক কনভেনশন (ICPPED) অনুযায়ী যথাযথ আইন প্রণয়ন করা হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক গুমের অনেক অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পরে গুম করা ব্যক্তিদের আটকে রাখার স্থান ‘আয়না ঘর’ প্রকাশ্যে এসেছে।