নুর আহত, সংঘর্ষের ঘটনায় আইএসপিআরের ব্যাখ্যা
শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে গণ অধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এক পর্যায়ে লাঠিচার্জ শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের হামলায় গুরুতর আহত হন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেন রাজনৈতিক দলগুলো। পরে এক বিবৃতিতে এ ঘটনার ব্যখ্যা দিয়েছে আইএসপিআর।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতেই বিবৃতি দেয় আইএসপির। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজ রাত আনুমানিক ৮ টায় রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় দুটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন।’
আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেড়ে গেলে তারা সেনাবাহিনীর সহযোগিতা কামনা করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের উপর আক্রমণ চালানো হয় এবং এতে কয়েকজন সদস্য আহত হন।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ঘটনার শুরুতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করার জন্য অনুরোধ করে। সেই সঙ্গে দেশের বিদ্যমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করারও অনুরোধ জানায়।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালানোর অভিযোগ এনে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বারংবার অনুরোধ সত্ত্বেও কতিপয় নেতাকর্মীরা তা উপেক্ষা করে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করে। তারা সংগঠিতভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়। আনুমানিক রাত ৯ টার দিকে মশাল মিছিলের মাধ্যমে সহিংসতা আরও বৃদ্ধি করে। এ সময় তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়ারও চেষ্টা চালায়।’
কাকরাইলের ঘটনায় সেনাবাহিনীর ৫ জন সদস্য আহত হওয়ার দাবি জানিয়ে আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এছাড়াও বিজয়নগর, নয়াপল্টন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সাধারণ জনগণের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শান্তিপূর্ণ সমাধানের সকল চেষ্টা তারা অগ্রাহ্য করে। ফলস্বরূপ, জননিরাপত্তা রক্ষার্থে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বল প্রয়োগে বাধ্য হয়। আজকের উদ্ভূত ঘটনায় সেনাবাহিনীর ৫ জন সদস্য আহত হয়।’
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জনমনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা আনয়নে সকল ধরনের মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে সদা প্রস্তুত জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সকল ধরনের মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করছে এবং জনমনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা আনয়নে সকল ধরনের মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে সদা প্রস্তুত রয়েছে। জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সর্বদা বদ্ধপরিকর।’
নুরুল হক নুরের উপর হামলায় গণ অধিকার পরিষদের সংবাদ সম্মেলন ও কর্মসূচী ঘোষণা
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওই হামলায় গুরুতর আহত হন নুরুল হক নুর। পরে রাত ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেলের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা নুরকে দেখতে যান।
ঢাকা মেডিকেলের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, ‘আমরা যখন আমরা রাত সাড়ে ৯টায় প্রেসমিট শুরু করতে যাচ্ছি। তখন সেনাবাহিনী ও পুলিশ অতর্কিতভাবে আমাদের উপর হামলা চালায়। এই হামলায় নুরুল হক নুরের নাক ফেটে গেছে, চোখে আঘাত লেগেছে। তার বুকের উপরে বুট জোতা দিয়ে পাড়ানো হয়েছে।
নুরের উপর হমলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১২টায় সারাদেশের ৬৪ জেলায় গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল পালন করবে। এবং বিকেল ৩টায় গণ অধিকার পরিষদের কার্যালয়ের সামনে এই হামলার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে।’
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নিন্দা
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে রাতেই মিছিল বের করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।