ফরহাদের ছাত্রলীগ বিতর্ক, ভিডিও বার্তা দিলেন আসল ফরহাদ
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি এস এম ফরহাদের ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। দাবি করা হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রলীগের কমিটিতে ছিলেন বর্তমান শিবির সভাপতি ফরহাদ। তবে এক ভিডিও বার্তায় সেই ঘটনা স্পষ্ট করলেন তৎকালীন ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকা আসল এস এম ফরহাদ হোসাইন।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক ভিডিও বার্তায় এ ঘটনা স্পষ্ট করেন তিনি। ভিডিও বার্তায় দুজনের পরিচয় স্পষ্ট করে ফরহাদ বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের এস এস ফরহাদ এবং আমি এক নই৷ আমার বাসা সাতক্ষীরা আর ওর বাসা চট্টগ্রাম। আমি ২০১৬-১৭ সেশনের ছাত্র, ও (ফরহাদ) ২০১৭-১৮ সেশনের ছাত্র। আমার বিভাগ ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য আর ও হচ্ছে সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের ছাত্র। আমরা একই হলের এবং ও আমার জুনিয়র।’
গত বছরের শেষদিক থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছাত্রলীগের প্যাডে দেওয়া কবি জসীম উদ্দীন হলের কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে ‘এস এম ফরহাদের’ নাম দেখা যায়। এরপর থেকে বিভিন্ন পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বর্তমান ছাত্রশিবিরের সভাপতি এস এম ফরহাদের নাম এটি।
ভিডিও বার্তায় এই ঘটনা স্পষ্ট করে ছাত্রলীগ নেতা ফরহাদ বলেন, ‘অনেকেই ব্যাপারটা গুলিয়ে ফেলছেন। আমরা এক ব্যক্তি নই। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রলীগের প্যাডে সহ-সভাপতি হিসেবে যে নামটা ঘুরছে, সেটা ছাত্রশিবিরের ফরহাদের নাম না, সেটা আমার নাম। ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির যে ব্যাপারটা, সেটা আমার সঙ্গে। ছাত্রশিবিরের এস এম ফরহাদের সঙ্গে নয়।’
আরও পড়ুন- হুমকি দেওয়া শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রক্টরকে অভিযোগ দিল শিবির
ওই ভিডিও বার্তায় জুলাই আন্দোলন ও ছাত্রলীগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা স্পষ্ট করেন ফরহাদ। তিনি বলেন, ‘অনেকেই জুলাই আন্দোলন ও ছাত্রলীগের সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা জানতে চেয়েছেন। সেটা হচ্ছে, ২০২৪—এর যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, সেখানে আমরা যারা ছাত্রলীগের প্যাডে ছিলাম… তারপরেও আমরা বিদ্রোহী হয়ে এবং একযোগে পদত্যাগ করে ১৪ জুলাই আমরা আন্দোলন করি। সেখানে আমরা তুমি কে, আমি কে, রাজাকার রাজাকার বলে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করি। এবং রাজু ভাস্কর্যে আমরা এটার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে।’
‘ওই দিন ছাত্রলীগের প্যাডে নাম ছিল, এমন অসংখ্য ছাত্র আমরা এই অন্যায়ের প্রতিবাদে আমরা চলে গিয়েছি। এরপর ১৫, ১৬, ১৭ তারিখ আমরা ক্যাম্পাসেই আন্দোলন করেছি। এরপর ১৬ তারিখে আমরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্দোলন করেছি। ওখানে আমাদের অবরুদ্ধ রাখা হয়েছিল।’- যোগ করেন ফরহাদ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ নির্বাচনে এস এম ফরহাদের প্রার্থীতার বৈঠতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট নিয়ে ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘ডাকসুকে কেন্দ্র করে একটি রিট হয়েছে ফরহাদের বিরুদ্ধে। সেটি হতেই পারে, যেকোনো প্রার্থী করতেই পারে। কিন্তু ব্যক্তি আমার সঙ্গে তাকে মিশিয়ে ফেলে কিছু করা, এটা মনে হয় সুখকর কিছু নয়।’
সেই ভিডিও বার্তায় ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম আবিদ, ছাত্রশিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম, জিএস প্রার্থী এসএম ফরহাদসহ সবার জন্য শুভ কামনা জানান তিনি।
আরও পড়ুন- ৭১ ও ২৪ নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করলো ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী প্যানেল
প্রসঙ্গত, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) প্রার্থী এস এম ফরহাদের ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনেন বামজোট মনোনীত ‘অপরাজেয় ৭১’, ‘অদম্য ২৪’ প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী বি এম ফাহমিদা আলম। পরবর্তীতে ফরহাদের প্রার্থীতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন তিনি।
রিটের শুনানিতে গত সোমবার ফরহাদের ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্তদা তদন্ত করতে দুই মাসের জন্য ডাকসু নির্বাচন স্থগিত করে হাইকোর্ট। বিচারপতি হাবিবুল গণি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টের রায়ের প্রায় ৪৫ মিনিট পরে চেম্বার জজ আদালত আবার হাইকোর্টের রায়কে স্থগিত ঘোষণা করে। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ দেন।
আজ বুধবার আবার আপিল বিভাগের ফুলকোর্টে এই রিটের শুনানি হয়। সেখানেও চেম্বার জজ আদলতের রায়কেই বহাল রাখেন উচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ফলে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচন হতে আর কোনো বাধা নেই। আদালতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।
অন্যদিকে, রিটকারী বামজোট সমর্থতি মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী ফাহমিদাকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ডাকসুর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে এস এম ফরহাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ দাখিল করতে বলা হয়।