রাজশাহীতে সাপের কামড় খেয়ে সাপসহ হাসপাতালে হাজির যুবক
কামড় দিলেন ভয়ঙ্কর চন্দ্রবোড়া রাসেল ভাইপার সাপ। এতে স্বাভাবিকভাবে ভয় পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আক্রান্ত ব্যক্তি। তবে সেসবের থোরাই-কেয়ারই করলেন না তিনি। উল্টো সাপ ধরে নিয়ে নিজেই অটোরকিশা চালিয়ে হাজির হন হাসপাতালে। আজ রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজশাহীর পবা সিটি হাট এলাকায় এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, পবা সিটি হাট এলাকায় এক যুবককে ভয়ঙ্কর চন্দ্রবোড়া রাসেল ভাইপার সাপ কামড় দেন। এতে সাধারণ মানুষের মতো ভয়ে না পালিয়ে তিনি উল্টো সাপটিকেই ধরে ফেলেন। এরপর ওই যুবক অটোরিকশা চালিয়ে সাপসহ সরাসরি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) হাজির হন। হঠাৎ করে হাসপাতালে জীবন্ত সাপ দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরাও হতবাক হয়ে যান।
আরও পড়ুন- ফিলিস্তিনকে পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্র করার দাবি জামায়াত আমীরের
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোগীকে দ্রুত সাপের এন্টিভেনম ইনজেকশন দেওয়া হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তিনি এখনও পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন। নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থল থেকে সাপের ছবিও পাওয়া গেছে। বিষাক্ত সাপের এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, এই ঘটনার কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ছবিতে মন্তব্য করে ওই যুবকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন নেটিজেনরা। নিগার আরোকা নামের একজন মন্তব্য করেছেন, ‘রিয়েল হিরো যে মৃত্যুকে ভয় পায় না।’ মো: আতিকুল নামের একজন মন্তব্য করেছেন, ‘সাহস এর জন্য লোকটি কে আল্লাহ বাঁচিয়ে দিল।’ সুমাইয়া সোমা নামের একজন কিছুটা হাসির ছলে লিখেছেন, ‘সাপ: ছাইড়া দে বাপ! পাপ করছি তোরে কামড়াইয়া।’
প্রসঙ্গত, চন্দ্রবোরা বা রাসেল ভাইপার (Daboia russelii) দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মারাত্মক সাপ। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারসহ এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে এটি পাওয়া যায়। দেহে বড় বড় চন্দ্রাকৃতি দাগ থাকায় স্থানীয়ভাবে একে “চন্দ্রবোরা” বলা হয়।
রাসেল ভাইপারের বিষ অত্যন্ত শক্তিশালী, যাতে হেমোটক্সিক ও সাইটোটক্সিক উপাদান থাকে। এগুলো রক্ত জমাট বাঁধা নষ্ট করে, শরীরের টিস্যু ধ্বংস করে এবং অনেক ক্ষেত্রে কিডনি বিকল করে দেয়।
রাসেল ভাইপার কামড়ের লক্ষণ
রাসেল ভাইপারের কামড়ে সাধারণত প্রচণ্ড ব্যথা, কামড়ের স্থানে ফোলা, রক্তপাত, মাথা ঘোরা, বমি ও শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। অনেক সময় নাক-মুখ দিয়েও রক্ত পড়তে থাকে। শরীর দ্রুত দুর্বল হয়ে রক্তচাপ কমে যায় এবং রোগী শকের মধ্যে পড়ে যায়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ
চিকিৎসকদের মতে, রাসেল ভাইপারের কামড়ে আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে না নিলে মৃত্যুর আশঙ্কা প্রায় অর্ধেকেরও বেশি। সময়মতো এন্টিভেনম ইনজেকশন দেওয়া গেলে রোগীর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।