ডাকসু নির্বাচন : সাংবাদিকদের পরিচয়পত্রে ভুল নিয়ে সমালোচনার ঝড়
আগামী মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেই ধারায় নির্বাচন কাভার করার জন্য সাংবাদিকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষকের পরিচয়পত্র দিয়েছে প্রশাসন। যেখানে দেখা যায়, কারো নামের বানান ভুল আবার কারো পদবী ভুল। কারো কারো তো পদবীই পরিবর্তন করে দিয়েছে ডাকসু নির্বাচন কমিশন। সেই পরিচয়পত্র নিয়ে শুরু হয়েছে চরম সমালোচনা।
আজ রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষকের পরিচয়পত্র দেয় প্রশাসন। এরপরই সামনে আসে এই ঘটনা। ভুলে ভরা সেই পরিচয়পত্রগুলো ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন ভুল চরম সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
আরও পড়ুন- ডাকসু নির্বাচন নিয়ে রিটের পর ব্যবস্থা নিলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সেই পরিচয়পত্রগুলোতে দেখা যায়, মোহনা টেলিভিশনের জয়েন্ট নিউজ এডিটর রেসা খানের পদবীতে লিখেছে ‘জয়েন্ট নিউজ ইডেটর’। কালবেলা’র মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আবু বক্কার সিদ্দিকের পদবীতে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টারের পরিবর্তে শুধু ‘সাংবাদিক’ লিখেছে। এই ভুল দেখা গেছে আরও কয়েকজন সাংবাদিকের পরিচয়পত্রে। কালবেলার আরেক মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রাহাতুল আলমের পরিচয়পত্রে মাল্টিমিডিয়া বানান ভুল করে লিখেছে ‘মালটি মিডিয়া’।

মোহনা টিভির জয়েন্ট নিউজ এডিটর রেসা খান ও কালবেলা’র মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আবু বক্কার সিদ্দিকের পরিচয়পত্র। ছবি : ফেসবুক থেকে নেওয়া
অন্যদিকে, জি টিভির স্টাফ রিপোর্টার মাহি মুবাশশির হাসানের পদবীতে স্টাফ রিপোর্টারের পরিবর্তে লিখেছে ‘স্টফ রিপোর্টার’। সবচেয়ে বড় ভুলটি করেছে এখন টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার আজহারুল ইসলামের পরিচয়পত্রে। সিনিয়র রিপোর্টারের পরিবর্তে লিখেছে ‘স্যার রিপোর্টার’।
প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন ভুল নিয়ে চলছে চরম সমালোচনা। কালবেলা’র মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আবু বক্কার সিদ্দিক ফেসবুকে নিজের পরিচয়পত্রের ছবি শেয়ার দিয়ে লিখেছেন, “ডাকসু নির্বাচনী সংবাদ কাভারেজের জন্য প্রেসকার্ড হাতে পেলাম। অফিস আমাকে পদবি দিয়েছে মোজো রিপোর্টার। আবেদনেও সেটা দিয়ে ছিলাম। ঢাবির নির্বাচন কমিশন পদবি দিয়ে দিল সাংবাদিক। কিন্তু এটা তো আমার পেশা। আর আমার পদবি মোজো রিপোর্টার।”
আবু বক্কার সিদ্দিক আরও লিখেছেন, “এবার একটু ছবিতে আসি- আমার ছবিটিতে এভাবে অস্ত্রোপচার না চালালেও পারতেন। একান্ত প্রয়োজন হলে সমানভাবে কাটাছেঁড়া করা যেত না? অথবা নোটিশে বলতেন, আমরা স্ট্যাম্প সাইজের ছবি সরবরাহ করতাম। দেখলাম অনেক সাংবাদিকের নামের বানান ভুল, ভুলভাল পদবী। ঢাবির কি বেহাল দশা। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে কি দক্ষ লোকবলের সংকট পড়েছে? যে সাংবাদিকদের প্রেসকার্ডও সঠিকভাবে সরবরাহ করা গেল না!”
আরও পড়ুন- ফরহাদের ছাত্রলীগ বিতর্ক, ভিডিও বার্তা দিলেন আসল ফরহাদ
দুটি পরিচয়পত্রের ছবি শেয়ার করে প্রতিবাদ জানিয়ে এনটিভির ক্রাইম রিপোর্টার নাহিদ প্রিন্স লিখেছেন, “নিউজ এডিটরের যায়গায় ‘নিউজ ইডেটোর’। সিনিয়র রিপোর্টারের জায়গায় ‘স্যার রিপোর্টার’। যেহেতু প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়টি লিখেছে তাইলে ঠিক আছে হয়তো।”
কালবেলার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার এজমো আহমেদ একটি পরিচয়পত্রের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “ঢাবির অবস্থা এমন হলে কিভাবে হবে? মাল্টিমিডিয়া বানান ঠিক নাই, মোজো রিপোর্টারের জায়গায় দিয়েছে ‘মজো রিপোর্টার’। আর আমার নামের জায়গায় দিয়েছে আমার বাপের নাম। পরে আবার প্রক্টর অফিসে গিয়ে কার্ড সংশোধন করি। এমন ঘটনা আজকে প্রায় সব সাংবাদিকের সঙ্গে হয়েছে।”
যুগান্তরের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আবু সালেহ মুসা তার নিজের পরিচয়পত্রের ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে লিখেছেন, “দেখানোর মত না, তাই ঢেকে দিয়েছি। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড আর বাংলাদেশি অক্সফোর্ড এক না।”
প্রসঙ্গত, প্রায় ছয় বছর পরে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ডাকসু নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এবারের নির্বাচনে মোট ২৮টি পদে ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ৬২ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে লড়ছেন ৪৫ জন প্রার্থী। এরমধ্যে ৫ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। আর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে লড়ছেন ১৯ জন প্রার্থী। এই পদে লড়ছেন ১ জন নারী প্রার্থী।
এবারের ডাকসু নির্বাচনে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ২০ হাজার ৮৭১ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ১৮ হাজার ৯০২ জন।
এদিকে, নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় শেষ হয়েছে নির্বাচনের প্রচারণা। নিয়ম অনুযায়ী, এরপর আর ক্যাম্পাসে স্বশরীরে কোনো প্রচারণা চালাতে পারবেন না প্রার্থীরা। তবে, অনলাইনে নিজেদের পক্ষে প্রচারণা করতে পারবেন প্রার্থীরা।
ডাকসু নির্বাচনে মোট ৮১০টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি বুথে একজন ভোটার গড়ে ১০ মিনিট সময় নিলেও ভোটগ্রহণ নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টার মধ্যেই সম্পন্ন হবে।