টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো: নূর আলম। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এলসেভিয়ের সম্প্রতি যৌথভাবে এ তালিকা প্রকাশ করেছে। এর আগেও তিনি ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে সেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পান।
ড. মো: নূর আলম পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। তাঁর গবেষণার প্রধান বিষয় ফ্লুইড মেকানিক্স, কম্পিউটার গ্রাফিক্স, এনালাইটিকাল নিউমেরিক্যাল মেথডস ফর ডিফারেন্সিয়াল ইকুয়েশন।
তথ্যমতে, ২০২৫ সালের এই শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীদের তালিকা বিভিন্ন ক্ষেত্রের সাইটেশন, এইচ-ইন্ডেক্স এবং কো-অথরশিপ-অ্যাডজাস্টেড এইচ-ইন্ডেক্স এর ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এলসেভিয়ার, স্প্রিংগার, হিন্দাউই, ন্যাচার (সাইন্টিফিক রিপোর্ট) ও আইইইই ট্রানজেকশনের মতো বিশ্বসেরা জার্নালে অধ্যাপক ড. মো: নূর আলমের প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
গুগল স্কলারের তথ্যমতে, বর্তমানে তাঁর গবেষণার সাইটেশনসংখ্যা ৩ হাজার ১০০ অতিক্রম করেছে। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এক্সিবিশন ও কনফারেন্সে বেস্ট পেপার অ্যাওয়ার্ড ও স্বর্ণপদকে ভূষিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন গবেষণা কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
নিজের এই অর্জনকে বাংলাদেশের গবেষণা ও একাডেমিক উৎকর্ষের উজ্জ্বল স্বীকৃতি হিসেবে মনে করেন অধ্যাপক ড. মো: নূর আলম। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে পুনরায় বিশ্বের শীর্ষ ২% বিজ্ঞানীদের তালিকায় স্থান পেয়ে আমি গভীরভাবে সম্মানিত। টানা ৪ বছর এই স্বীকৃতি অর্জন কেবল আমার ব্যক্তিগত সাফল্য নয় বরং এটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের গবেষণা ও একাডেমিক উৎকর্ষের এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি।’
তিনি বলেন, ‘আমি সর্বদা চেষ্টা করেছি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কে বিশ্বের দরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে। বিশেষ করে গণিত বিভাগের গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নিত করার লক্ষ্যে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এই ধারাবাহিকতায় টানা ৪ বার বিশ্বের শীর্ষ গবেষকদের তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।’
ড. মো: নূর আলমের আশা পাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা বিশ্বদরবারে বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচিত করেব। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাবে এবং বিশ্বদরবারে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচিত করবে। তাদের সাফল্যের মধ্য দিয়েই আমাদের প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে আরও সমৃদ্ধ হবে।’