ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতায় স্থগিত কমিটি আবারও অনুমোদন দিলো ছাত্রদল
চলতি বছরের মার্চে পাবনা মেডিকেল কলেজ শাখার কমিটি দেয় ছাত্রদল। সে সময় কমিটিতে একাধিক ছাত্রলীগ কর্মী থাকার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে সেই কমিটি স্থগিত করা হয়। প্রায় ছয় মাস পরে আবারও পুরনো কমিটিই অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
গত বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পুরনো কমিটির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন এই কমিটির অনুমোদন দেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আরও পড়ুন- নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিলো পাবিপ্রবি ছাত্রদল
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, পাবনা মেডিকেল কলেজ শাখার ঘোষিত কমিটি ২৪ মার্চ ২০২৫ তারিখে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক গতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার স্বার্থে উক্ত ইউনিটের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হলো।’
কমিটিতে ছাত্রলীগের ৯ জন নেতা!
চলতি বছরের মার্চে দেওয়া ২২ সদস্যের সেই কমিটির ৯ জনেরই ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। ‘ঢাকা মনিটর ২৪’-এর কাছে থাকা তথ্যানুযায়ী, সেই ৯ জন একসময় ছাত্রলীগের কমিটিতে ছিলেন।
একসময় ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকা এসব নেতা-কর্মীরা ছাত্রদলের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, এমনকি সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রচার সম্পাদক পদে জায়গা পেয়েছেন।
ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান শুভ ছাত্রদলের কমিটিতে হয়েছেন সাধারণ সম্পাদক। গবেষণা সম্পাদক আমিমুল এহসান তনিম হয়েছেন ১ নম্বর সিনিয়র সহ-সভাপতি।
ছাত্রদলের কমিটির পাঁচ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে তিনজনই এসেছেন ছাত্রলীগ থেকে। তারা হলেন– হাবিবুর রহমান (ছাত্রলীগের কমিটিতে সমাজসেবা সম্পাদক ছিলেন), তরিকুল ইসলাম (ছাত্রলীগের কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন) ও তাসরিফ আলম।
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জায়গা পেয়েছেন মো. ইয়াসিন আরাফাত। প্রচার সম্পাদক পদে জায়গা পেয়েছেন ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকা সামিন রাফিদ আরোহ। আর সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জায়গা পেয়েছেন নাসির উদ্দীন নাবিল।
সমালোচনার মুখে স্থগিত, আবার ফিরলো আগের কমিটি
গত ২৩ মার্চ ২২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রদল। কমিটি ঘোষণার পরই সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল সমালোচনা তৈরি হয় ছাত্রদলের এই কমিটি নিয়ে। গণমাধ্যমেরও শিরোনাম হয় ছাত্রদলের আলোচিত এই কমিটি। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, “নিজেদের কর্মী না থাকায় কি ছাত্রলীগ দিয়েই এই কমিটি ঘোষণা?”
পরবর্তীতে সমালোচনার মুখে একদিন পরই কমিটিতে স্থগিতাদেশ দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। গত ২৪ মার্চ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন এই আদেশ দেন। ছয় মাস যেতে না যেতেই আবারও অনুমোদন পেল সেই কমিটি।