নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে কোরআন অবমাননার প্রতিবাদে শিবিরের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণ
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অপূর্ব পালের পবিত্র কোরআন অবমাননার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সপ্তাহ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখা। সোমবার (৬ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শাখা সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
অপূর্ব পালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অপূর্ব পালের পবিত্র কোরআন অবমাননার এই ধৃষ্টতাপূর্ণ কর্মকাণ্ড মুসলমানদের হৃদয়ে চরমভাবে আঘাত করেছে। তার এই ঘটনা কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার অবকাশ নেই। এটি দেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো পরিকল্পনার অংশ কিনা তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
পরিকল্পিতভাবে দেশে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা হচ্ছে দাবি করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ধর্ম অবমাননার ঘটনা এ দেশে নতুন নয়; দেশকে অস্থিতিশীল করতে বিভিন্ন সময় পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ২০২১ সালের অক্টোবরে কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কোরআন অবমাননা করা হয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী কোরআন পোড়ানোর মতো ঘৃণ্য কাজ করেছে।’
আরো পড়ুন- প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ‘জুলাই স্মৃতি’ লিখন প্রতিযোগিতা
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘বিভিন্ন সময় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উস্কে দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করেছে কিছু কুচক্রী মহল। কিন্তু বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলেও এর বিরুদ্ধে কোনো সরকারকেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আমরা দেখিনি।’
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সপ্তাহব্যাপী চার দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা, দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি কোরআন বিতরণ, ইসলামিক সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাফসীর পাঠ প্রতিযোগিতা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সপ্তাহ ব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করতে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির সকল শিক্ষার্থী ও কোরআনপ্রেমীদের আহ্বান জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, গত ৪ অক্টোবর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের ২১১ ব্যাচের শিক্ষার্থী অপূর্ব পাল প্রকাশ্যে পবিত্র কুরআন শরীফ ছিঁড়েন এবং সেটির ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন।
মুহুর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেই ভিডিওটি। এতে সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এর মধ্যে ওইদিন রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।