বাংলাদেশ ক্রিকেটের ১০টি ঐতিহাসিক ঘটনা
আইসিসি ট্রফি জয় (১৯৯৭)
১৯৯৭ সালের ১৩ এপ্রিল মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। এটাই ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটের টার্নিং পয়েন্ট। ফাইনালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের কিলাত কিলাব মাঠে কেনিয়াকে ২ উইকেটের ব্যবধানে হারায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আইসিসি ট্রফি জয়ের ফলে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করে টাইগাররা। সেই আইসিসি ট্রফি জয়ে উদযাপন করেছিল গোটা জাতি।
প্রথম ওডিআই জয় (১৯৯৮)
১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়াতে ওয়ানডে ফরম্যাটের আইসিসি ট্রফি জিতলেও তখনো ওয়ানডে স্ট্যাটাস পায়নি। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে সেটাকে ওয়ানডে জয় বলা হয় না। ১৯৯৭ সালেই ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার পরে ১৯৯৮ সালে প্রথম ওয়ানডে জয় পায় বাংলাদেশ। ১৭ মে ভারতে অনুষ্ঠিত কোকাকোলা ত্রিদেশীয় সিরিজে কেনিয়াকে ছয় উইকেটে হারায় টাইগাররা। এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম ওডিআই জয়া ২২ ম্যাচ পর এই জয় পায় বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন- বিসিবি সভাপতির বসবাস নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন ইমরুল কায়েস
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে এক ওভার বাকি থাকতে ২৩৬ রান তুলে গুটিয়ে যায় কেনিয়া। রান তাড়ায় নেমে ৪৮ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। জয় পায় ৬ উইকেটের ব্যবধানে। কেনিয়াকে আটকে রাখতে প্রথমে বলহাতে ৩ উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ রফিক। এরপর ব্যাটহাতেও দলের ত্রাণকর্তা হয়ে দেখা দেন তিনি। ইনিংস ওপেন করতে নেমে ৭৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন রফিক। জিতে নেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম জয় (১৯৯৯)
১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলা সুযোগ পায় বাংলাদেশ। সেবারই বাজিমাত করে দেন টাইগাররা। প্রথমবার অংশ নিয়েই তুলে নেয় দুটি জয়। বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেই হার দেখে বাংলাদেশ। কিন্তু তৃতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়িয়ে তুলে নেয় ঐতিহাসিক জয়। ৩১ মে ইংল্যান্ডের এডিনবার্গে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ রানের জয় পায় টাইগাররা। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৮৫ রানের পুঁজি দাঁড় করায় বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ২২ বল থাকতেই ১৬৩ রানে গুটিয়ে স্কটিশরা। ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। ব্যাটহাতে ১১৬ বলে ৬৮ রানের পরে বল হাতে ৩ ওভারে ১২ রান দিয়ে এক উইকেট নেন। ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে।
১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়
বাংলাদেশ ক্রিকেটে তখন নবাগত হিসেবে বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে। কিন্তু ততদিনে বিশ্বকাপই ঘরে তুলেছে পাকিস্তান। সেই পাকিস্তানকে হারিয়েই চমকে দিয়েছিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দল। স্কটল্যান্ডকে হারানোর পরে চমকে দেন পাকিস্তানকে। জয় তুলে নেয় ৬২ রানের বড় ব্যবধানে। বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৩৯ রান তুলে। সেই রান তাড়ায় নেমে ১৬১ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ম্যাচসেরার পুরষ্কার জেতেন খালেদ মাহমুদ সুজন। ব্যাটহাতে ৩৪ বলে ২৭ রানের পরে বল হাতে ১০ ওভারে মাত্র ৩১ রান খরচায় তুলে নেন ৩ উইকেট। এই জয়ের পরই বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাসের আলোচনা জোরদার হয়।
টেস্ট মর্যাদা অর্জন (২০০০)
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক লাগে। ২০০০ সালের ২৬ জুন দশম টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পায় বাংলাদেশ। এতে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশের মর্যাদা পায় বাংলাদেশ। এই স্বীকৃতি দেশের ক্রিকেটে নতুন এক যুগের সূচনা করে দেয়।
বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচ (২০০০)
২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পরে সাদা পোষাকে মাঠে নামতে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশকে। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার মাত্র ৪ মাসের মধ্যেই টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নামে টাইগাররা। ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। যদিও ম্যাচটি জেতা হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংস ও ৯ রানে হারে টাইগাররা। তবে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ঐতিহাসিক ১৪৫ রানের ইনিংস ও নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের নেতৃত্ব ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে গর্ব এনে দেয়।
প্রথম টেস্ট জয় (২০০৫)
৩৫তম টেস্টে গিয়ে প্রথম জয় পায় বাংলাদেশ। ২০০৫ সালে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে জিম্বাবুয়েকে ২২৬ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে ৪৮৮ রান করেছিল বাংলাদেশ। হাবিবুল বাশার ৯৪, রাজিন সালেহ ৮৯ ও রফিক ৬৯ রান করেছিলেন। জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংসে ৩১২ রান করেছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে টাইগাররা ২০৪ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। জবাবে মাত্র ১৫৪ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংস
বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়
২০০৭ সালের বিশ্বকাপে আবারও ইতিহাসের জন্ম দেয় বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দেয় বাংলাদেশ। ১৭ মার্চ পোর্ট অব স্পেনে টস হেরে বোলিং করতে নেমে ভারতকে ১৯১ রানেই আটকে দেয় বাংলাদেশ। বলহাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন মাশরাফি বিন মর্তুজা (৪ উইকেট), আব্দুর রাজ্জাক (৩ উইকেট) ও মোহাম্মদ রফিক (৩ উইকেট)।
আরও পড়ুন- টি-টোয়েন্টিতে ‘টেস্ট মুডে’ ব্যাটিং : আধুনিক ক্রিকেটে কতটা পিছিয়ে বাংলাদেশ?
রান তাড়ায় নেমে বাংলাদেশের কান্ডারি হয়ে দেখা দেন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান। ৫৩ বলে ৫১ রানের দারুণ শুরু এনে দেন তামিম। মিডল অর্ডারে ১০৭ বলে ৫৬ রানের অপরাজিত দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন মুশফিক। আর ৮৬ বলে ৫৩ রান করেন সাকিব। ৯ বল থাকতে বাংলাদেশ জয় পায় ৫ উইকেটে। এই জয় কোয়ার্টার ফাইনালের পথ খুলে দিয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত আর বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়া হয়নি।
প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা
২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপটা ছিল বাংলাদেশের জন্য স্বপ্নের মতো। ৯ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ওভালে ইংল্যান্ডকে ১৫ রানে হারিয়ে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সেঞ্চুরি (১৩৮ বলে ১০৩ রান) আর মুশফিকুর রহিমের হাফসেঞ্চুরিতে (৭৭ বলে ৮৯ রান) স্কোরবোর্ডে ২৭৫ রান যোগ করে বাংলাদেশ।
এরপর বোলিংয়ে ডেথ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করেন পেসার রুবেল হোসেন। তার ওই আগুন ঝড়ানো বলে ইংল্যান্ড থামে ১৬০ রানে। বাংলাদেশ জয় পায় ১৫ রানের। ৯.৩ ওভার বল করে ৫৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন রুবেল।
প্রথমবার এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠা ও হার
২০১২ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয় এশিয়া কাপ। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কা– এশিয়ার টেস্ট খেলুড়ে চার দেশ নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই আসর। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত সেই এশিয়া কাপে প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ।
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হারলেও পরের দুই ম্যাচে ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে ৫ উইকেটে হারায় টাইগাররা। এতে জায়গায় করে নেয় ফাইনালে। শিরোপা নির্ধারনী লড়াইয়ে আবারও পাকিস্তানের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ফাইনালে ২ রানে হেরে স্বপ্ন ভাঙে টাইগারদের।
ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৩৬ রান তুলেছিল পাকিস্তান। জবাব দিতে নেমে ৫০ ওভারে ৮ উেইকেট হারিয়ে ২৩৪ রান তুলতে পেরেছিল বাংলাদেশ। শেষ ২ বলে মেলাতে পারেনি ৩ রানের সমীকরণ।