ব্যাটিং ব্যর্থতায় হার দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের
টস জিতে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছিলেন, আশাকরি ২৮০ রান ভালো স্কোর হবে। কিন্তু ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ তার ধারকাছেও যেতে পারল না। আবারও ব্যাটিং ব্যর্থতার পুরনো গল্প রচনা করে বাংলাদেশ। কোনোমতে ২০০ ছাড়ানো পুঁজি দাঁড় করায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। স্বল্প রানের পুঁজি নিয়ে বোলিংটাও সেরকম করতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলাফল হিসেবে হার দিয়ে সিরিজ করল মিরাজের দল। তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।
বুধবার (৮ অক্টোবর) তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪৮.৫ ওভারে ২২১ রানে থামে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ৪৭.১ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান। জয় পায় ৫ উইকেটের ব্যবধানে।
মাঝারি রান তাড়ায় নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৫০ রান তুলে ফেলে দুই ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ আর ইব্রাহীম জাদরান। পাওয়ার-প্লের শেষ ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দেন স্পিনার তানভীর ইসলাম। তার বলে উইকেট ছেড়ে বেড়িয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্টাম্পিং হয়ে ফেরেন জাদরান। ২৭ বলে ২৩ রান করে তিনি ফিরলে ভাঙ্গে সেই জুটি।
আরও পড়ুন- বাংলাদেশ ক্রিকেটের ১০টি ঐতিহাসিক ঘটনা
দুই ওভার পরই সেদিকুল্লাহ অটলকে তানজিদ হাসান তামিমের ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠান তানজিম হাসান সাকিব। ফেরার আগে ১৫ বলে ৫ রান করেন তিনি। দ্রুতই দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের লাগাম ধরা চেষ্টা করে বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের লড়াই অতটুকুতেই থেমেছে।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের সবচেষ্টা বৃথা করে দেন গুরবাজ আর রহমত শাহ। ১১১ বলে ৭৮ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটতে দেন তারা। এরপর ৩১ ও ৩২ টানা দুই ওভারে এই দুই ব্যাটারকে ফেরালেও সেটি বাংলাদেশকে জয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারেনি। ৩১তম ওভারে তানজিম সাকিবের শিকার হয়ে ফেরেন রহমত। এর আগে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি, ফেরেন ৭০ বলে ৫০ রান করে। ৩২তম ওভারে মিরাজের বলে বোল্ডআউট হয়ে ফেরেন গুরবাজ। তিনিও হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ৭৬ বলে ৫০ রান করে ফেরেন।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট শিকার করেন তানজিম সাকিব। একটি করে উইকেট পান মিরাজ আর তানভীর।
এরপর আবারও বাংলাদেশকে চোখ রাঙানি দিয়ে জয় তুলে নেয় আফগানরা। আফগান অধিনায়ক হাসমতুল্লাহ শাহিদী পঞ্চম উইকেটে আজমতুল্লাহ ওমরজাইকে নিয়ে ৭০ বলে ৫৯ আর ষষ্ঠ উইকেটে মোহাম্মদ নবীকে নিয়ে ২৬ বলে ৩১ রানের জুটি গড়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। ওমরজাই ৪৪ বলে ৪০ রান করে ফিরলেও ৪৬ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত ছিলেন হাসমতুল্লাহ। তাকে সঙ্গ দিতে নেমে নবী অপরাজিত ছিলেন ৮ বলে ১১ রান করে।
আরও পড়ুন- ফেডারেশন কাপে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব ও আর্মি গলফ ক্লাব
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং ব্যর্থতার পুরনো গল্পই রচনা করে বাংলাদেশ। ৫০ রানেই ফেরত যান টপঅর্ডারের তিন ব্যাটার। তানজিদ হাসান তামিম ১০ বলে ১০, নাজমুল হোসেন শান্ত ৫ বলে ২ ও সাইফ হাসান ৩৭ বলে ২৬ রানে ফেরেন।
এরপর তৃতীয় উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ আর তাওহিদ হৃদয়। দুজন মিলে গড়েন ১০১ রানের জুটি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দশম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে হৃদয় ফিরলে ভাঙ্গে সেই জুটি। ৩৬তম ওভারে রান আউটে কাটা পড়েন তিনি। ফেরার আগে ৮৫ বলে খেলেন ৫৬ রানের ইনিংস।
ইনিংসে দ্বিতীয় দফা ব্যাটিং ব্যর্থতা দেখে বাংলাদেশ। হৃদয়ের পর দ্রুতই ফিরে যান মিরাজও। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ৮৭ বলে ৬০ রান করে ফেরেন তিনি। উইকেটে থিতু হতে পারেননি জাকের আলী অনিক (১৬ বলে ১০), নুরুল হাসান সোহানরা (১৪ বলে ৭)।
শেষদিকে তানজিম হাসান সাকিবের ২৩ বলে ১৭ আর তানভীর ইসলামের ৮ বলে ১১ রানের ইনিংসে ভর করে ২০০ ছাড়ানো পুঁজি পায় বাংলাদেশ। ৮ বল বাকি থাকতে ২২১ রানে গুটিয়ে যায় মিরাজের দল।
আফগানদের হয়ে সমান ৩টি করে উইকেট পান আজতুল্লাহ ওমরজাই আর রশিদ খান। ২টি উইকেট যায় গজনফারের ঝুলিতে। একটি উইকেট পান খারোতি।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
বাংলাদেশ : ৪৮.৫ ওভারে ২২১/১০ (তামিম ১০, শান্ত ২, সাইফ ২৬, হৃদয় ৫৬, মিরাজ ৬০, জাকের ১০, সোহান ৭, হাসান ৫, সাকিব ১৭, তানভীর ১১, তাসকিন ৪* ; খারোটি ১০-১-৩২-১, রশিদ ১০-০-৩৮-৩, নবী ৬-০-২৭-০, ওমরজাই ৯-০-৩৫-৩, বশির ৪-০-২৫-০, গজনফার ৯.৫-১-৫৫-২)।
আফগানিস্তান : ৪৭.১ ওভারে ২২৬/৫ (জাদরান ২৩, গুরবাজ ৫০, সেদিকুল্লাহ ৫, রহমত ৫০, ; তাসকিন ৮-০-৫০-০, হাসান ৮-০-৪০-০, তানভীর ১০-০-৪২-১, সাকিব ৭-১-৩১-৩, মিরাজ ১০-১-৩২-১, সাইফ ৩.১-০-২৪-০, শান্ত ১-০-৩-০)।
ফলাফল : আফগানিস্তান ৫ উইকেটে জয়ী।