ববির টিএসসিতে নিস্তব্ধতা, ঠাঁই নেই অধিকাংশ সংগঠনের
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মুক্ত বুদ্ধি চর্চা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র হলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) টিএসসির চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের দিনে বেশিরভাগ সময় শুনশান নীরবতা বজায় থাকে টিএসসিতে। গেটে লাগানো থাকে তালা, বন্ধ থাকে ক্যাফেটেরিয়াও। যে কারনে শিক্ষার্থীরা চাইলেও আড্ডা দিতে পারেন না টিএসসিতে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩৫টির বেশি সক্রিয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন থাকলেও, টিএসসির ভেতরে মাত্র কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের কার্যালয় রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মুক্ত বুদ্ধি চর্চা ও সাংস্কৃতিক সাংস্কৃতিক চর্চার পথে বাঁধা হয়ে দাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, টিএসসিতে শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দকৃত একটি রুম অপ্রয়োজনীয়ভাবে রাখা হয়েছে, যা ব্যবহারহীন পড়ে আছে।
আরও পড়ুন- ববিতে কাশফুলের সৌন্দর্যের আড়ালে অনুন্নয়ন
বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রনি খান বলেন, “টিএসসি বাংলাদেশের প্রায় সব বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে শুরু করে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণ শিক্ষার্থীদের আড্ডা, শিল্পচর্চা, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এটি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা ও সুস্থ বিনোদনের বড় মাধ্যম।”
এরপর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “তবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ত ক্লাস, পরীক্ষা ও একাডেমিক চাপের কারণে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ দেখা দেয়। এই সময়টাতে একটি সক্রিয় টিএসসি প্রাঙ্গণ শিক্ষার্থীদের মনকে প্রশান্তি দিতে, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে পারত। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে প্রায়ই বন্ধ থাকে এবং অনেক সময় তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকে।”
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি মেহেদী আরেফিনের অভিযোগও একই। তিনি বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি, টিএসসি’র একটি ফ্লোর শিক্ষকদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। আমাদের চাওয়া, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন টিএসসি’র সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রুম বরাদ্দে আরও সহায়ক ভূমিকা রাখে।” এতে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে।
আরও পড়ুন- টাকা আর ট্রেন্ডের নেশায় হারিয়ে যাচ্ছে ব্যক্তিত্ব
শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দকৃত অব্যবহৃত রুম নিয়ে ববি টিএসসির পরিচালক মোঃ তরিকুল হক বলেন, “শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দকৃত রুমের যে বিষয়টি উঠেছে সেটা আসলে আপনার দেখতে হবে যে স্থানটির নাম টিচার্স স্টুডেন্ট সেন্টার সেখানে শিক্ষকদের জন্য একটা রুম বরাদ্দ থাকাটা নিয়মের বাইরের কিছু না।”
তার মতে, জায়গা সংকটের কারণেই এটি হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রথমত জায়গা সংকটের কারনে আমাদের ম্যাক্সিমাম সমস্যা গুলো হচ্ছে। রুম সংকটের জন্য আমরা চাইলেও সকল সংগঠনের জন্য রুম বরাদ্দ দিতে পারছি না। তবে আশা করছি বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে চলমান প্রজেক্ট যত তারাতাড়ি শেষ হবে তত তারাতাড়ি স্পেস এর বিষয় টা সমাধান হবে।”
আরও পড়ুন- বাংলাদেশ ক্রিকেটের ১০টি ঐতিহাসিক ঘটনা
ছুটির দিনে টিএসসি বন্ধ রাখার কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা বন্ধের দিনে টিএসসি সাধারণত খোলা রাখতে পারি না, কারন আমাদের টিএসসি কেন্দ্রীক স্টাফ সংকট রয়েছে। তবে আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কথা বলে দেখবো যে, নতুন ভাবে স্টাফ নিয়োগ দেওয়ার কোনো উপায় আছে কি না।”
প্রসঙ্গত, দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) কেন্দ্র সব দিনই উন্মুক্ত থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই জায়গাটি ছাত্র-শিক্ষকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে থাকে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্রস্থল বলা হয় টিএসসিকে। এখান থেকেই পরিচালিত হয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো কাজ।