এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট কিভাবে দেখবেন
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সময় ঘোষণা করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবরের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে হতো। কিন্তু ১৭ ও ১৮ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র ও শনিবার) থাকায় আগামী ১৬ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে। গত বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং একই দিন দুপুরে এক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ফলাফল প্রকাশের সময় প্রকাশ হলেই শিক্ষার্থীদের মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে কিভাবে ফলাফল দেখবেন। ফলাফল দেখার মাধ্যম নিয়ে বোর্ড থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে জানা গেছে, ফলাফল দেখার নিয়মে কোনো পরিবর্তন আসছে না। অর্থাৎ, আগের বছরের মতো এবছরও অনলাইন ও এসএমএস—উভয় মাধ্যমেই ফলাফল জানা যাবে।
কোথায় দেখবেন ফলাফল
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল অনলাইনে দেখতে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতে হবে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত দুটি ওয়েবসাইট—www.educationboardresults.gov.bd এবং https://eboardresults.com। এছাড়াও মোবাইলের মেসেজ অপশন থেকেও দেখা যাবে রেজাল্ট। অনলাইনে ফলাফল দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
কিভাবে দেখবেন ফলাফল
প্রথম সাইটটিতে গিয়ে পরীক্ষার ধরন (HSC/Alim), সাল, বোর্ড, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং নিরাপত্তা কোড পূরণ করে “Submit” বাটনে ক্লিক করলেই ফলাফল জানা যাবে। দ্বিতীয় ওয়েবসাইটে ফলাফলসহ বিষয়ভিত্তিক নম্বরও বিস্তারিতভাবে দেখা যাবে।
প্রথম ওয়েবসাইটে গিয়ে ছবিতে থাকা প্রথম অপশনে ক্লিক করে আপনার পরীক্ষার নাম সিলেক্ট করুন। যেমন: এইচএসসি/সমমান পরীক্ষা।
এবার ছবিতে দেখানো দ্বিতীয় অপশনে ক্লিক করে আপনার পরীক্ষা সাল সিলেক্ট করুন। যেমন: আপনি এবছর পরীক্ষা দিলে ২০২৫ সাল সিলেক্ট করুন।
ছবিতে দেখানো দ্বিতীয় অপশনে ক্লিক করে আপনার বোর্ডের নাম সিলেক্ট করুন। যেমন: ঢাকা বোর্ড, মাদরাসা বোর্ড, টেকনিক্যাল বোর্ড ইত্যাদি।
ছবিতে দেখানো পরের দুই ঘরে আপনার পরীক্ষার রোল আর রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার লিখুন। রেজিষ্ট্রেশন নম্বর অপশনাল। না দিলেও রেজাল্ট দেখতে পারবেন। তবে, রেজিষ্ট্রেশন নম্বর দিলে সবগুলো বিষয়ের গ্রেড পয়েন্টও দেখা যাবে।
উপরের সবগুলো ঠিকঠাক মতো পূরণ করা হয়ে গেলে, এবার এই ছবিটিতে দেখানোর মতো, সাবমিট অপশনে ক্লিক করুন।
মোবাইলে যেভাবে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল দেখবেন
এছাড়া যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে এসএমএসের মাধ্যমে রেজাল্ট জানতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে এইএসসি লিখে একটি স্পেস দিয়ে, বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর লিখে, এরপর আরেকটি স্পেস দিয়ে রোল নম্বর, এরপর আরেকটি স্পেস দিয়ে পরীক্ষার সাল লিখে পাঠিয়ে দিতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। যেমন: HSC DHA 123456 2025। এরপর ফিরতি এসএমএসে জানিয়ে দেওয়া হবে রেজাল্ট।
বোর্ডের সংক্ষিপ্ত কোডগুলো হলো- ঢাকা বোর্ডের জন্য “DHA”, চট্টগ্রাম “CHI”, রাজশাহী “RAJ”, কুমিল্লা “COM”, বরিশাল “BAR”, সিলেট “SYL”, যশোর “JES”, দিনাজপুর “DIN”, মাদ্রাসা বোর্ডের জন্য “MAD” এবং কারিগরি বোর্ডের জন্য “TEC”।
আরও পড়ুন- জাবিপ্রবির পরিবহনে যোগ হলো নতুন বাস
এর বাইরেও শিক্ষার্থীরা চাইলে নিজ নিজ বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফলাফলসহ রেজাল্ট শিট ডাউনলোড করতে পারবেন। বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে দেখা যাবে পুরো প্রতিষ্ঠানের ফলাফলও। সেজন্য সেই বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের EIIN নম্বর দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক রেজাল্ট শিট ডাউনলোড করা যাবে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ফলাফল প্রকাশের দিন সকাল থেকেই অনলাইন সার্ভার এবং এসএমএস সেবা চালু থাকবে। রেজাল্ট প্রকাশের পূর্বে এগুলোতে প্রবেশ করলে কোনো তথ্য পাওয়া যাবে না। এছাড়াও রেজাল্ট প্রকাশের পরে এক সঙ্গে অধিক সংখ্যক চেষ্টার কারণে একটু বেশি সময় লাগতে পারে।
আরও পড়ুন- ২০২৫ সালে ৩০ হাজার টাকায় সেরা ৩ স্মার্টফোন
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সারাদেশে প্রায় ১২ লাখ ৫১ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। যেখানে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলো মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ঢাকা বোর্ড থেকে। অন্যদিকে, তুলনামূলক কম শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে বরিশাল বোর্ড থেকে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ঢাকা বোর্ড থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ২ লাখ ৯১ হাজার ২৪১ জন শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৪২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে রাজশাহী বোর্ড থেকে। এরপরে রয়েছে যথাক্রমে যশোর বোর্ড (১ লাখ ১৬ হাজার ৩১৭ জন), দিনাজপুর বোর্ড (১ লাখ ৩ হাজার ৮৩২ জন), কুমিল্লা বোর্ড (১ লাখ ১ হাজার ৭৫০ জন) এবং চট্টগ্রাম বোর্ড (১ লাখ ১ হাজার ১৩৫ জন পরীক্ষার্থী)।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে ময়মনসিংহ বোর্ডে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৭৮ হাজার ২৭৩ জন, সিলেট বোর্ডে ৬৯ হাজার ৬৮৩ জন এবং বরিশাল বোর্ডে ৬১ হাজার ২৫ জন। মাদ্রাসা বোর্ডের (আলিম) পরীক্ষার্থী ছিল ৮৬ হাজার ১০২ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৬১১ জন শিক্ষার্থী।




