অগ্নিকাণ্ডে নাশকতার প্রমাণ পেলে দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে সরকার
সম্প্রতি দেশের কয়েকটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সাধারণত জনগণের মনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই অগ্নিকাণ্ডগুলো পরিকল্পিত ভাবে করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অন্তর্বতী সরকার জানিয়েছে, নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে।
আজ শনিবার (১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতি এ কথা জানানো হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে বলা হয়েছে, ‘নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে। কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা উসকানির মাধ্যমে জনজীবন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ জনগনের মনে নানা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি-না এমন উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জনগনের এই উদ্বেগ সম্পর্কে অন্তর্বর্তী সরকার অবগত আছেন বলে বিবৃতিতে জানা হয়েছে।
আরও পড়ুন- ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক : পুতিনের বৈঠকে যোগ দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা
মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ অন্তর্বর্তী সরকার সতর্কতা অবলম্বন করছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার পেজে দেওয়া ওই বিবৃতি বলা হয়, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি সংঘটিত একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার তা গভীরভাবে অবগত। আমরা সকল নাগরিককে আশ্বস্ত করতে চাই—নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রতিটি ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে ‘
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—যদি এসব অগ্নিকাণ্ড নাশকতা হিসেবে প্রমাণিত হয়। আর এর উদ্দেশ্য হয় জনমনে আতঙ্ক বা বিভাজন সৃষ্টি করা, তবে তারা সফল হবে কেবল তখনই, যখন আমরা ভয়কে আমাদের বিবেচনা ও দৃঢ়তার ওপর প্রাধান্য দিতে দেব।’
ঐক্যবদ্ধ হয়ে যেকোনো হুমকি মোকাবিলা করার কথা জানিয়ে বিবৃতি বলা হয়, ‘বাংলাদেশ অতীতেও বহু কঠিন সময় অতিক্রম করেছে। আমরা ঐক্য, সংযম ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আমাদের গণতন্ত্রের উত্তরণের পথে যেকোনো হুমকির মোকাবিলা করব। আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’
হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন
আজ শনিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে হজরত শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জানা যায়, বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিমানবন্দরের এই এলকায় আমদানিকৃত পণ্য—গার্মেন্টস শিল্পের কাঁচামাল, রাসায়নিক সামগ্রী ছিল। যে কারণে দ্রুতই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
আরও পড়ুন- হাবিপ্রবিতে রেড ক্রিসেন্টের দুইদিনব্যাপী প্রাথমিক চিকিৎসা কর্মশালা সম্পন্ন
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট কাজ করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় নৌ-বাহিনী, বিমানবাহিনী, সিভিল অ্যাভিয়েশন, দুই প্লাটুন বিজিবিসহ পুলিশ ও আনসারের সদস্যরা। সকলের প্রচেষ্টায় রাত ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
জানা গেছে, কার্গো ভিলেজটি বিমান বন্দরের আট নম্বর গেটের পাশে অবস্থিত। আগুন লেগেছে আমদানি কার্গো কমপ্লেক্স ভবনে। এখানে বেদশ থাকা আমদানী করা পণ্য ছিল। আগুনে সেখানকার প্রায় সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
মিরপুর ও চট্টগ্রাম ইপিজেডে আগুন
এর আগে গত মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়ির একটি রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগে। এই অগ্নিকাণ্ডে ১৬জন মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এছাড়াও একটি গার্মেন্টস এবং একটি কেমিক্যাল গোডাউন পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, মাত্র দুদিন পরই আবারো আগুন লাগে চট্টগ্রাম ইডিজেডে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) একটি কারখানায় আগুন লাগে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। ভয়াবহ এই নিয়ন্ত্রণে আসে পরের দিন (শুক্রবার) সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তারেক রহমানের উদ্বেগ
দেশের কয়েকটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে আগুন লাগার ঘটনায় আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত। এই ঘটনার কারণ নির্ধারণ করতে এবং ভবিষ্যতের জন্য জননিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে একটি সম্পূর্ণ ও স্বচ্ছ তদন্ত করা জরুরি।’
একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ইপিজেড ও মিরপুরের পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কারণ অনুসন্ধানও অতীব জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
সাধারণ মানুষের উদ্বেগ
এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কাকতালীয় না পরিকল্পিত—এই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। বিশেষ করে নির্বাচনপূর্ব সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর এমন ক্ষয়ক্ষতি ও আতঙ্ক রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ, আসন্ন নির্বাচন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চাপের মধ্যে এমন ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ড সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ স্থাপনাগুলোতে ঘনঘন অগ্নিকাণ্ড দুর্ঘটনা নাও হতে পারে।