মিরপুরের উইকেটের ব্যাখ্যা দিলেন আশরাফুল
ওয়ানডে ক্রিকেটে হারে বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছিল বাংলাদেশ। সর্বশেষ খেলা চারটি সিরিজের সবুগলোতেই হেরেছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে আবার দুটি সিরিজে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেখানে থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
বাংলাদেশ জয় পেলেও এদিন মিরপুরের উইকেট নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। মিরপুরের উইকেট নিয়ে ম্যাচের আগেরদিন থেকেই আলোচনা চলছিল। কালো কুঁচকুঁচে উইকেটে খেলা হয়েছে, যা সাধারণত ওয়ানডে ক্রিকেটে দেখা যায় না।
আজ রোববার (১৯ অক্টোবর) গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার মোহাম্মদ আশারফুল। সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়, এমন উইকেট কাছাকাছি সময়ে আপনি দেখেছেন কি-না?
আরও পড়ুন- বাংলাদেশ ক্রিকেটের ১০টি ঐতিহাসিক ঘটনা
সেই প্রশ্নের উত্তরে আশরাফুল বলেন, ‘মিরপুরে তো আসলে এমন উইকেটই হয়। হয়ত অন্য সময় দেখতাম ঘাস দেওয়া থাকত, হাল্কা ঘাস ছিটানো হতো। এবার ঘাস দেওয়া হয়নি বলেই কালো রঙ লেগেছে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এ ম্যাচে বেশ ভালোভাবেই ঘরের মাঠের সুবিধা নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরের উইকেটও বানানো হয়েছিল, নিজেদের মতো করেই। অবশ্য সারা বিশ্বেই ঘরের দলগুলো ঘরের মাঠের সুবিধা নিয়ে থাকে। ঘরের মাঠের সুবিধা কেনো নিয়েছে বাংলাদেশ সেই ব্যাখ্যা দিলেন আশরাফুলও।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক পরিস্থিতিতে আছি, হোম এডভান্টেজ তো নিতেই হবে। টেবিলের (র্যাংকিংয়ের) ১০-এ আছি, বিশ্বকাপ খেলতে ৯ নম্বরে যেতে হবে। এই ৩ ম্যাচ আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
আরও পড়ুন- ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে যা বললেন পেসার রুবেল
মিরপুরে এর আগে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতের মতো দলকেও হারিয়েছে বাংলাদেশ। তখনও উইকেটের অবস্থা অনেকটা এমনই ছিল। আর এটাই বাংলাদেশকে ফেবারিট করে তোলে, সেটিই মনে করিয়ে দিলেন আশরাফুল।
তিনি বলেন, ‘এই উইকেটের কারণে মিরপুরে আমরা ফেভারিট থাকি। ফ্ল্যাট-প্রপার উইকেট আমরা আশা করি, সেটা এই সিরিজে হচ্ছে না। বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাকি দুই ম্যাচও গুরুত্বপূর্ণ। এটা সবাইকে মেনে নিতে হবে।’
ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগানোর যেন আরও একটি কারণ ব্যাখ্যা করলেন আশরাফুল। তার মতে, ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য হলেও এই জয়টা দরকার ছিল।
তিনি বলেন, ‘আত্মবিশ্বাস দরকার ছিল প্রত্যেক খেলোয়াড়ের। অনেক দিন ধরেই ওয়ানডে ক্রিকেটে জয় পাচ্ছিলাম না। বোলিং ভালো হলে ব্যাটিং। ভালো হচ্ছিল না, ব্যাটিং ভালো হলে বোলিং আপ টু দা মার্ক হচ্ছিল না আজ সহজক ছিল না, উইকেট ব্যাটারদের জন্য কঠিন ছিল।’
প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পরাস্ত করার নায়ক রিশাদ হোসেন। পাওয়া-প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫০ রান তুলে ফেলা ক্যারিবিয়ানদের ১৩৩ রানে আটকে দিতে তার ভুমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ৬ উইকেট একাই তুলে নেন রিশাদ।
রিশাদের প্রশংসাও ঝড়ল জাতীয় দলের এই তারকার মুখে। আশরাফুল বলেন, ‘দারুণ শুরু পেয়েছিল ওরা, ৫০ রান বিনা উইকেটে। সেই জায়গা থেকে রিশাদ চমৎকার ৬টি উইকেট নিয়েছেন।’
রিশাদ যখন জাতীয় দলে প্রথম সুযোগ পান তখন, জাতীয় দলের কোচ ছিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহ। বলা হয়, তার এক ধরণের লেগস্পিনার প্রীতি ছিল, সেখান থেকেই রিশাদকে দলে নেন তিনি। তবে, আশরাফুল শুধু হাথুরুসিংহ নয়, কৃতিত্ব দিলেন তৎকালীন দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশার সুমনকেও।
আশরাফুল বলেন, ‘অবশ্যই। কেন দিবেন না? (হাথুরুসিংহকে কৃতিত্ব) হাথুরুসিংহের সাথে দুই নির্বাচক ছিলেন নান্নু ভাই ও সুমন ভাই, তাদেরও কৃতিত্ব দিব। তারা রিশাদকে ঐ সময় ব্যাক করেছেন।’