চেতনার কথা বলে আর বিভাজনের রাজনীতি করে দেশকে ভালোবাসা যায় না : সাদ্দাম
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, “শুধু চেতনার কথা বলে, বিভাজনের রাজনীতি করে দেশকে ভালোবাসা যায় না। দেশে থেকে, সবটুকু বিলিয়ে দিতে হয়। দেশের উন্নতির জন্য শিক্ষাখাতে বাজেট বাড়াতে হবে। যেখানে জিডিপর ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার কথা, সেখানে ২ শতাংশও দেওয়া হয় না।”
আজ রোববার (১৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ ভবনে মার্কেটিং বিভাগের কনফারেন্স রুমে শাখা শিবিরের আয়োজিত “অদম্য মেধাবী সংবর্ধনা-২০২৫” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন তিনি।
সাদ্দাম বলেন, “বাংলাদেশের সমসাময়িক স্বাধীন হওয়া অনেক দেশ এখন ইকোনমিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে চীন, জাপান, হংকং, ডেনমার্কের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি।”
তিনি আরও বলেন, “একটি দেশের জনগণকে জনশক্তিতে রুপান্তর করতে পারলে এবং দক্ষ করে তুলতে পারলেই দেশের উন্নতি সম্ভব। তবে দূর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করলে তবেই দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে। তখনই দক্ষতাসম্পন্ন মানুষদের মূল্যায়ন সম্ভব হয়।”
ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা ছিল শিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানো। কিন্তু এদেশে কোটি কোটি টাকা দূ্ীনীতি হয় এ ব্যাপারে কারো নজর নেই। শিক্ষকদের সামান্য চাহিদা দিতে ব্যর্থ। বিগত সময়ে লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। যা দিয়ে আট বছরের বাজেট করা সম্ভব। এদেশের ট্যাক্স পেয়ারদের মধ্য ৭৫ চতাংশ ট্যাক্স দেয় না। যারা দেয় সেসবও সুভংকরের ফাকি।”
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন বলেন, “আমরা প্রত্যকেই যার কাছ থেকে পাবো তাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকি। কিন্তু যার কাছ থেকে পাবো না, তাকে নিয়ে কোনো প্রত্যাশা করি না। ছাত্রশিবির শাখা যেন তাদের নিয়ে প্রতিবছর এটা করেন। একটা লিস্ট করেন, যাতে এর বাইরেও কাজ করতে পারেন। কল্যাণ মুখী রাষ্ট্রের উচিত তাদের কথা ভাবা। অন্যান্য দেশে রাস্তায় আলাদা ভাবে তাদের ব্যবস্থা করা হয়। কল্যাণকামী রাষ্ট্র না হওয়া পর্যন্ত আমরা একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে।”
অনুষ্ঠানে মোট ৩৫ জনকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। প্রত্যেককে তিন হাজার টাকার নগদ অর্থ, একটি সিরাতের বইসহ উপহার সামগ্রী দেয়া হয়েছে।
এদিন শাখা ছাত্রশিবির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জাহেদের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন- মো. রিয়াজুল ইসলাম। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ কিডনি ডিজিজেস এন্ড ইউরোলজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড মো তোহিদ হোসাইনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।