বার্ষিক মূল্যায়নে হাবিপ্রবির প্রক্টর পেলেন ৬.২৯, অভিযোগ-প্রত্যাশা নিয়ে মুখ খুললেন প্রক্টর
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. শামসুজ্জোহা’র দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে পরিচালিত বার্ষিক মূল্যায়ন জরিপে অংশগ্রহণ করেছেন ১৮৮ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অ্যালামনাই। জরিপে গড় রেটিং এসেছে ৬.২৯ (১০ এর মধ্যে), যা প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন।
জরিপটি পরিচালনা করেছে হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি। অংশগ্রহণকারীদের মন্তব্যে উঠে এসেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ, যেমন অতিরিক্ত মেস ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল, সাংবাদিক সমিতির অফিসে হামলার বিচার না হওয়া, সমকামিতার অভিযোগের সুরাহা না হওয়া, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মামলা না হওয়া, এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ। শিক্ষার্থীদের একাংশ মনে করেন, প্রক্টর হিসেবে তিনি দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
তবে জরিপে কিছু ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, রাতের টহল কার্যক্রম এবং অশ্লীলতা রোধে দৃশ্যমান ভূমিকার জন্য প্রশংসা করেছেন অনেকে। শিক্ষার্থীরা নিরাপদ আবাসন, মানসম্মত খাবার, চিকিৎসা সুবিধা, রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস এবং মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
আরও পড়ুন- উত্তপ্ত হাবিপ্রবি ক্যম্পাস, ছুরিকাঘাতের অভিযোগে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার শিবির নেতা
প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. শামসুজ্জোহা জরিপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “কাজ করতে গেলে ভালো-খারাপ মন্তব্য আসবেই। দায়িত্বের জায়গা থেকে অনেক সময় অনেক কাজ আমরা করতে চেয়েও করতে পারি না, কিন্তু সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার চেষ্টা করে যাই।”
তিনি জানান, অতিরিক্ত মেস ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজন মেস মালিকের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে কথা বলেছি। বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে বিদ্যুৎ অফিসে অবহিত করা হয়েছে।”
অস্ত্র উদ্ধারের মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, “এ ধরনের মামলায় রেজিস্ট্রার বাদী হন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্দেশনা দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অতীতে হলগুলো নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে ছিল, নামমাত্র হল প্রশাসন থাকলেও কার্যত সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।”
চুরি ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করতে হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে বিরক্তি প্রকাশ করে। সবাই সচেতন হলে চুরি কমানো সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি নিয়মিত ডাইনিং চালু রাখতে। কিন্তু পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না খাওয়ায় মান উন্নয়ন সম্ভব হয় না। ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবায়ন পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় সীমিত আকারে দলীয় কার্যক্রম চলছে।”
মাদক ও র্যাগিং বিষয়ে তিনি বলেন, “হলগুলোতে মাদক সংক্রান্ত খবর পেলেই অভিযান চালানো হয়। র্যাগিং বিষয়ে বর্তমান প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে আছে। এন্টি র্যাগিং সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।”
প্রক্টর শামসুজ্জোহা বলেন, “শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যায় তাৎক্ষণিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। আশা করি, সকলের সহযোগিতায় আমরা একটি সুন্দর ক্যাম্পাস ও শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে পারবো।”