ত্রিভুজ প্রেমের বলি জবি ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইনের হত্যার পরিকল্পনা করেন বর্ষা ও তার প্রেমিক মাহির। গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে এ হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা। বর্ষার পরামর্শেই মাহির হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানায় পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপির) মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ডিসি মল্লিক আহসান।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, “বর্ষা মাহিরকে জানায়, জোবায়েদকে না সরালে তোমার কাছে ফিরতে পারব না। বর্ষার পরিকল্পনা অনুসারে জোবায়েদকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় মাহির ও তার বন্ধু আয়লানসহ তিনজন। ঘটনার দিন মাহির জোবায়েদকে বর্ষার থেকে সরে আসতে বলে। জোবায়েদ জানায়, আমি সরে আসব কেন? তখন তাদের মাঝে তর্কাতর্কি হয়। এরপর এ হত্যাকাণ্ড।”
অতিরিক্ত কমিশনার আরও বলেন, “প্রথমে বর্ষা হত্যার পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করে। তবে মাহির ও বর্ষাকে মুখোমুখি করলে তারা সবকিছু স্বীকার করে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকেই তারা পরিকল্পনা শুরু করেছিল। এখন পর্যন্ত বর্ষাসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।”
এ ছাড়া ডিএমপির প্রেস ব্রিফিংয়ে লালবাগ জোনের ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, “জোবায়েদ তখন মারা যায়নি। বাঁচার জন্য দোতলা থেকে ওপরে ওঠে। তিন তলায় দাঁড়িয়ে ছিল বর্ষা। তখন বর্ষাকে দেখে জোবায়েদ বলে, আমাকে বাঁচাও। কিন্তু বর্ষা বলে, তুমি না মরলে আমি মাহিরের হবো না। বর্ষা তার মৃত্যু কনফার্ম করে যায়। তখন জোবায়েদ বাঁচার আকুতি করলেও কারও সাহায্য পায়নি।”
বর্ষা কেন হত্যার পরিকল্পনায় জড়ালো— এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, “বর্ষা, মাহির ও জোবায়েদের মধ্যে ত্রিভুজ প্রেম ছিল। বর্ষা সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না কাকে বেছে নেবে। এক পর্যায়ে সে মাহিরকে বেছে নেয় এবং জোবায়েদকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।”
পরিবারের কেউ জড়িত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত পরিবারের সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য মেলেনি। তবে আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।”