বুয়েট ছাত্র শ্রীশান্তের শাস্তির দাবিতে জবি ছাত্রী সংস্থার মানববন্ধন
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র শ্রীশান্ত রায়ের নারীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্রী সংস্থা।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিক নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
মানববন্ধনে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার প্রতিনিধি সুখীমন খাতুন বলেন, ‘বুয়েট ছাত্র শ্রীশান্ত রায় এবং কালিয়াকৈরের ধর্ষণ ঘটনার বিচারসহ সারাদেশে নারী নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। ভুক্তভোগীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য পরিবার ও সমাজকে আরও সহায়ক হতে হবে।’
জবি শিক্ষার্থী ইশরাত ইমু বলেন, ‘এরকম চলতে থাকলে ধর্ষণ গুলো ঘটতে থাকবে তার বিপরীতে আমরা মানববন্ধন করতে থাকবো। আর কোনো সমাধান আসবে না। আপনি যদি দেখে থাকেন, দেখবেন ভিক্টিমকে কিভাবে হাইলাইট করা হয়, এভাবে যদি ধর্ষককে হাইলাইট করা হতো এবং তাদের বিচারের আওতায় আনা হতো।’
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনাগুলো যখন প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকে তখন মানুষ ভাবে তারা ঘরেই নিরাপদ। যার ফলে অনেক নারী উচ্চ শিক্ষা লাভ করতে ব্যর্থ হয়।’
এর আগে, ধর্মীয় অবমাননা ও নারী সহপাঠীকে ধর্ষণের অভিযোগে বুয়েট ক্যাম্পাসে আন্দোলনের মুখে শ্রীশান্ত রায়ের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর মঙ্গলবার রাত সাড়ে চারটার দিকে আহসান উল্লাহ হল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ওই ছাত্রকে ইতিমধ্যে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। আহসান উল্লাহ হলের প্রভোস্ট ড. মুহাম্মদ ফয়সাল বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলাদাভাবে কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বুয়েটের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, শ্রীশান্ত রায় ‘রেডিট’ নামের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছদ্মনামে নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শিক্ষার্থীরা তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং প্রশাসনের কাছে শাস্তির দাবি জানান।