অনিশ্চিত পাতাল মেট্রোরেলের দুটি প্রকল্প
রাজধানীবাসীর জন্য মেট্রোরেল এখন এক আশীর্বাদের মতো। ব্যস্ত নগরীতে গণপরিবহনে ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যামে বসে থাকার বিপরীতে মেট্রোরেলের দ্রুতগতির সার্ভিস রাজধানীবাসীকে দিয়েছে স্বস্তি। সেই স্বাচ্ছন্দ্য আরও বাড়াতে সরকার মেট্রোরেল প্রকল্প সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেয়। কিন্তু মাঝপথে এসে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে দুটি প্রকল্পের কাজ।
বর্তমানে মেট্রোরেলের পরিধি উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত। এই পরিধি বাড়াতে প্রকল্প হাতে নিয়েছিল সরকার। মেট্রোরেল-১ প্রকল্পের অধীনে কমলাপুর থেকে এয়ারপোর্ট ও মেট্রোরেল-৫ প্রকল্পের অধীনে হেমায়েতপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সেবা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এই দুটি প্রকল্পেই পাতাল পথে মেট্রোরেল তৈরি করা হবে।
আরও পড়ুন- ‘আমার সুমনরে আইনা দিবেন নি বাবা’
প্রকল্প দুটির ইতোমধ্যে ডিপো নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। নাগরিক সেবার লাইন, অর্থাৎ সুয়ারেজ, ড্রেনেজ, গ্যাস লাইন সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলমান। পাতাল এই দুই রেলপথের নকশার কাজও শেষ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে মেট্রোরেলের এই দুই প্রকল্পের কাজ।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো কাজ শেষ করতে যে পরিমাণ অর্থ লগ্নি করতে চেয়েছিল সরকার, বর্তমানে তা কয়েকগুণ বেড়েছে। আর এ কারণেই এমন সিদ্ধান্ত।
এ নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিব আব্দুর রউফ বলছেন, পুরো বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। পাতাল রেল দুটি মূলত নির্মাণ কাজ শুরু হতে আরও সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, “টেন্ডারগুলি হচ্ছে। টেন্ডারগুলিতে অপ্রত্যাশিতভাবে দ্বিগুণ, তিনগুণ বেশি প্যাকেজ ভ্যালু আসছে। ডিপিভি ভ্যালু থেকে বেশি কস্ট ঠিকাদাররা দাখিল করছে। এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে এখন দাঁড়িয়েছে।”
সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিব বলেন, “আমি যতটুকু জানি, সরকার চেষ্টা করছে। আমাদের এমডি মহোদয় কয়েকদিন আগে জাপানে যাইকার ওখান থেকে ঘুরে এসেছেন এবং কথা বলছেন। যে এটা হলো তো, প্রকল্পের খরচ অনেক বৃদ্ধি পাবে।”
আরও পড়ুন- ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আহনাফ : এক নক্ষত্রের পতন
বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ন্যাচারালি আমি যদি টেন্ডারারকে নিয়োগই করতে না পারি, তারপরে তা তো সময় দিতে হবে কাজ করার জন্য। সেক্ষেত্রে আমি যতটুকু জানি, এখন ২৭-২৮ পর্যন্ত আছে লাইন ভ্যালু। তারপর হয়তো আরো বাড়তে পারে। বাট যদি সমস্যার সমাধান হয়ে যায়, তাহলে হয়তো বেশি সময় নাও লাগতে পারে।”
মেট্রোরেল-১ ও মেট্রোরেল-৫ দুটি প্রকল্পেই বিনিয়োগ করেছে জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকা। এর বাইরে যেসকল আন্তর্জাতিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রকল্পে আগ্রহ প্রকাশ করছে, তারাও জাপানের। তাই সরকার এর বিকল্প উপায় খোঁজার চেষ্টা চলছে বলে জানান সেতু সচিব। তিনি বলেন, “এটা নিয়ে সরকারের উর্ধ্বতনরা চিন্তা-ভাবনা করছেন। চেষ্টা করা হচ্ছে একটা ভালো সমাধান খোঁজার।”
যাইকার বাইরে যাওয়ার চিন্তা আছে কি-না, এমন প্রশ্নের উত্তরে সেতু সচিব আব্দুর রউফ বলেন, “এই লোনটা তো জাইকা আমাদের দিয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে, এটা পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে। এই মুহূর্তে আসলে কমেন্টস করা কঠিন। আর প্রোজেক্টের এই পর্যায়ে এসে ছেড়ে দেওয়াও কঠিন।”
তার মতে, “এখন একটা উইন-উইন সিচুয়েশনে কিভাবে প্রোজেক্টগুলি বাস্তবায়ন করা যায়, নিশ্চয়ই সরকার সেভাবে হয়তো চিন্তা করবে।”
মেট্রোরেল-১ এবং মেট্রোরেল-৫-এর ডিপো নির্মাণ এবং ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরের কাজ চলছে। এই দুটি কাজেই যে, বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হচ্ছে, সেটি ঋণ সহায়তা আকারে আসছে জাইকা থেকে। এখন শেষ পর্যন্ত যদি এটি বাস্তবায়ন না হয়, সেই ক্ষেত্রে যে টাকা খরচ হয়েছে তা ফেরত দিতে হবে। অন্যদিকে, প্রকল্প দুটি শুরু করতে দেরি হলে আবার নির্মাণ ব্যয় বাড়বে।