মেসি-মার্তিনেসের নৈপূন্যে জয় দিয়ে বছর শেষ করল আর্জেন্টিনা
শক্তি, সামর্থ্য কিংবা অতীত পরিসংখ্যান সবদিক থেকেই আর্জেন্টিনার চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে আফ্রিকার দেশ অ্যাঙ্গোলা। ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও দুই দলের ব্যবধান চোখে পড়ার মতো। তবে প্রীতি ম্যাচ বলেই হয়তো মাঠে নেমে আক্রমণের ঝড় তুললো না আর্জেন্টিনা। ফলে একচ্ছত্র আধিপত্যও দেখা গেলো না। অবশ্য কাজেরটা করেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। দেশে ফিরছে জয় নিয়েই।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দিনগত রাতে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। মেসি একবার করে জাল খুঁজে নিয়েছেন লিওনেল মেসি ও লাউতারো মার্তিনেস। ফলে জয় দিয়েই বছর শেষ করল আলবিসেলেস্তেরা।
অ্যাঙ্গোলার সঙ্গে আর্জেন্টিনার এটিই প্রথম দেখা নয়। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের আগেও একবার তাদের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল আকাশী-নীল জার্সিধারীরা। সেই ম্যাচের ফলাফলও ছিল একই।
আরও পড়ুন- বাংলাদেশ ক্রিকেটের ১০টি ঐতিহাসিক ঘটনা
গা-গরম করার ম্যাচের শুরুটাও হয় ঢিমেতালে। প্রথম ১০ মিনিটে অ্যাঙ্গোলার অর্ধেই ছিল বল। গোলের জন্য প্রথম শটটিও নেয় স্বাগতিকরা। কিন্তু সেটি লক্ষ্যে রাখতে পারেনি তারা।
আর্জেন্টিনা প্রথম সুযোগ পায় ম্যাচের ১৯তম মিনিটে। ডি-বক্সে থেকে নেওয়া মেসির জোরাল কোনাকুনি শট রুখে দিয়ে সফরকারীদের হতাশ করেন অ্যাঙ্গোলার গোলরক্ষক। ম্যাচের ৩৯তিম মিনিটে দ্বিতীয় সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। থিয়াগো আলমাদার কাটব্যাক ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে নেওয়া মেসির শট এবার বল চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।
আরও পড়ুন- ভুলে ভরা ফুটবলে বড় হার দেখল বাংলাদেশ
প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট আগে আর্জেন্টিনাকে লিড এনে দেন লাউতারো মার্তিনেস। ম্যাচের ৪৩ মিনিটে মেসির থ্রু বল ডি-বক্সে পেয়ে, প্রথম ছোঁয়ায় দারুণ শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ইন্টার মিলান ফরোয়ার্ড।
বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৬২ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিক অ্যাঙ্গোলা। তবে সতীর্থের পাস বক্সে পেয়ে অরক্ষিত লুভুম্বো শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।
এরপর ম্যাচের ৮২তম মিনিটে অ্যাঙ্গোলার কফিনে শেষ পেরেক ঢুকে দেন মেসি। দারুণ গতিতে ডি-বক্সে ঢুকে পড়া মেসির থেকে স্লাইডে বল কেড়ে নেন অ্যাঙ্গোলার এক ডিফেন্ডার। তবে সেই বলের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় আবার মার্তিনেসের কাছে। তার পাস আবার ডি-বক্সে পেয়ে জোরাল কোনাকুনি শটে জালে জড়ান মেসি। জাতীয় দলের হয়ে ১৯৬ ম্যাচে মেসির গোল হলো ১১৫টি।
ইতোমধ্যে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাই শেষ হয়েছে। সবার ওপরে থেকেই বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে বসবে বিশ্বকাপের আসর। তার আগে দল গোছাতেই এই প্রীতি ম্যাচ খেলছে আর্জেন্টিনা।
জুনে বিশ্বকাপের আগে আরও কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। তবে আপাতত আগামী মার্চের আগে আর আন্তর্জাতিক কোনো ম্যাচ নেই।