ভারতকে হারিয়ে কিংবদন্তি পিন্টুকে স্মরণ করলেন শোমিত
২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বশেষ ভারতকে হারিয়ে জয়ের হাসি হেসেছিল বাংলাদেশ। এরপর কেটে গেছে প্রায় দুই যুগ। কিন্তু জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। ম্যাচের আগে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর কথা বলেছিলেন শোমিত সোম। সেই কথা রেখেছেন তিনি। ভারতকে হারিয়ে ২২ বছরের অপেক্ষা ফুরিয়েছে বাংলাদেশের।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচে জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ের উল্লাসেম মেতে ওঠেছে গোটা দেশের কোটি প্রাণ ফুটবল প্রেমী। তবে গত এই দিনেই বিষাদের নীল হয়েছিল ফুটবল ভক্তরা। এই দিনেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু।
আরও পড়ুন- বাংলাদেশের ২২ বছর পর ভারতবধ
কাকতালীয়ভাবে এক বছর পর সেই দিনেই উৎসবে রঙিন দেশের ফুটলাঙ্গন। তবে এই আনন্দের মাঝে কিংবদন্তি অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টুকে মনে রেখেছেন শোমিত সোম। নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে লাল-সবুজের এই জয়কে প্রয়াত জাকারিয়া পিন্টুকে উৎসর্গ করেছেন শোমিত।
শোমিত বলেন, ‘আমি এই জয় উৎসর্গ করতে চাই স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের কিংবদন্তি অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টুকে। ঠিক এক বছর আগের এই দিনেই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমরা যারা বাংলাদেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামি, বাংলাদেশের প্রতি তাঁর সাহস, নেতৃত্ব আর ভালোবাসা আজও আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়।’
এর আগে চার ম্যাচে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে মাঠে নামলেও জয়েল দেখা পাননি শোমিত। সেই খরা কেটেছে এবার। তাই এই রাতটি শোমিতের জন্য বিশেষ। তিনি বলেন, ‘আজকের রাতটা ছিল বিশেষ— কারণ ভারতের বিপক্ষে আমাদের দর্শকদের সামনে জয়। যার জন্য আমরা খেলি, যার জন্য লড়াই করি। বাংলাদেশের জন্য জয় আনতে পেরে, আমাদের মানুষকে গর্বিত করতে পেরে আমরা খুশি।’
প্রতিবার ২২ ঘন্টার ভ্রমণ করে কানাডা থেকে বাংলাদেশের জন্য খেলতে আসতে হয় শোমিতকে। তিনি বললেন, দর্শকদের গর্জন শুনতে পেরে সেসব কষ্ট স্বর্থক হয়ে যায়। শোমিত বলেন, ‘২২ ঘণ্টার ভ্রমণের পর, প্রতিটি মাইল… প্রতিটি ক্লান্তির মুহূর্ত… মাঠে নেমে আমাদের সমর্থকদের গর্জন শুনে সব কিছুই সার্থক মনে হয়। দর্শকদের সেই শক্তিই আমাদের চালিয়ে নিয়ে যায়।’