শিক্ষার্থীদের জীবনের চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ না : এসএম ফরহাদ
টানা দুইদিন ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে দেশে। দুইদিনে কয়েক দফা ভূমিকম্প নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা দেশকে। আজ শনিবারও দুই দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। যার উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা। এমন অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর নাজুক অবস্থা শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে।
ভবনগুলোর দেয়ালে ফাটল, স্থাপনার দুর্বলতা এবং বারবার কম্পন অনুভূত হওয়ায় আবাসিক ছাত্রছাত্রীরা প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এসএম ফরহাদ বলেছেন, এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সবচেয়ে জরুরি।
ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের নিয়ে আবাসিক সব ভবনের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করতে হবে এবং সেই মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।”
নিজের ফেসবুক পেইজে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, “প্রতিবেদনে যেসব ভবন বা কক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত হবে, সেগুলো অবিলম্বে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সেখানে থাকা শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করার ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থায় থাকা ভবনগুলোও দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে নিরাপদ করতে হবে।”
ডাকসু জিএস বলেন, “পরপর দুদিনের ভূমিকম্প শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপে ফেলেছে। তাই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণরূপে স্থানান্তর নিশ্চিত না করা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা উচিত। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবনের তুলনায় ক্লাস ও পরীক্ষা কখনোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না, যা প্রশাসনের বুঝতে হবে।”
এসএম ফরহাদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তবে ডাকসু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তাই সর্বাগ্রে—এর আগে কোনো শিক্ষা কার্যক্রম চলতে পারে না।”