কুয়াশার চাদরে মোড়া জাবিপ্রবি ক্যাম্পাস : শীতের আগমনী বার্তা
হেমন্তের বিদায় ঘণ্টা বাজতেই প্রকৃতিতে নেমে এসেছে শীতের আগমনী বার্তা। নভেম্বরের মাঝেই জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে অনুভূত হচ্ছে শিরশিরে হিমেল স্পর্শ।
শীতের আগমনে ক্যাম্পাসে নেমে এসেছে কুয়াশার অপূর্ব ব্যঞ্জনা। ভোরবেলার প্রথম আলো ফুটতেই ক্যাম্পাসজুড়ে যেন ছড়িয়ে পড়ে কুয়াশার ঘন সাদা চাদর। দূর থেকে একাডেমিক ভবন, ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও আবাসিক হলগুলো চোখে পড়ে কেবল আবছা ধূসর রূপে।
ক্যাম্পাসে সৌন্দর্য কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে সবুজ ঘাসের ওপর ভোরের সূর্যের আলোর হালকা লালচে রঙয়ের ঝিলিক। দূর থেকে দেখলে মনে হয় প্রতিটি ঘাসের মাথায় যেন মুক্তোর মতো শিশির কণা জমে আছে। আর শীতের এই আবহাওয়া অনুভব করতে ফজরের নামাজের পরে অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে হাঁটাহাঁটি করেন। ভোরে কুয়াশায় চাদরে ঢেকে যায় রাস্তা-ঘাট। এসবই জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।
সারাদিন গরম থাকে কিন্তু রাতে ও ভোরে এই শীতের কারনে আবহাওয়াটা অনেক সুন্দর থাকে। বিশেষ করে মাঠে ঘাসের ডগায় বিন্দু বিন্দু কুয়াশা জমতে দেখা যায়। সন্ধ্যা হতেই কুয়াশা পড়তে শুরু করে। নাতিশীতোষ্ণ বলতে যে আবহাওয়া বোঝায় সেটাই যেন তার মূল সময় এবং স্থান।
দিনের বেলা কিছুটা গরম থাকলেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই কুয়াশা পড়তে শুরু করে। রাত যত গভীর হয় কুয়াশা তত বাড়ে হালকা বৃষ্টির মতো টিপটিপ কুয়াশা ঝরতে থাকে। বিশেষ করে মাঠে ঘাসের ডগায় জমতে দেখা যায় বিন্দু বিন্দু শিশির। উত্তর থেকে আসছে শিরশিরে বাতাস। ভোরের প্রকৃতিতে হাত বাড়লেই ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব। কয়েক দিন থেকে শেষ রাতে গায়ে কাঁথা চাপাচ্ছেন অনেকেই। সকালের পূর্ব দিগন্তের সূর্যোদয়ের সাথে সাথে কুয়াশার চাদর কেটে যায়।
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিবেশ অনেকটা গ্রামীণ আবহে ঘেরা। সকালবেলা শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে হাঁটে ক্যাম্পাসে, কেউবা চায়ের কাপ হাতে নতুন ঋতুর আগমন উপভোগ করে। রাতে আবার কুয়াশা ভেদ করে কেউ কেউ মাঠে বসে গল্প করে, কেউবা হলের সামনে দাঁড়িয়ে ঠান্ডা হাওয়ার স্বাদ নেন।
শীতের সকালে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের ঘুম ভাঙ্গে সারি সারি দেবদারু গাছে অবস্থানরত শীতের অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে। শীতের সকালে মাঝে মাঝে ঘোড়াদের ঘাস খেতে দেখা যায়। প্রভাতের আলোয় ঠিক যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একখণ্ড বাস্তব চিত্র জেগে ওঠে।
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আজনান ইসলাম আসিফ বলেন, “ক্যাম্পাসের সকালটা একদম শান্ত ও নির্মল।হালকা কুয়াশা আর নরম রোদে চারপাশ যেন নতুন করে জেগে ওঠে। সকালের এই নির্মল মুহূর্ত মনকে ভরে দেয় আশা ও ইতিবাচকতায়।”