দ. আফ্রিকাকে উড়িয়ে আবারও সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত
শুরুতে পরাস্ত হলো ভারতের পেস আগুনে, শেষদিকে কাবু হলো স্পিন ঘূর্ণিতে—তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে এমনই ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ের চিত্র। বাকিদের ব্যর্থতার ভিড়ে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াইয়ের কিছুটা পুঁজি এনে দিয়েছিলেন এইডেন মার্কারাম। কিন্তু ছোট পুঁজি আগলে রাখার মতো বোলিং করতে পারেননি বোলাররা। ফলাফল হিসেবে হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে স্কোরবোর্ডে ১১৭ রান যোগ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাব দিতে নেমে ১৭ বল আর ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় স্বাগতিক ভারত। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধর্মশালায় চার-ছক্কার বৃষ্টি নামান ভারতের দুই ওপেনার শুবমান গিল ও অভিষেক শর্মা। এতে পাওয়ার-প্লেতেই তৈরি হয়ে যায় জয়ের ভিত। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ১০ গড়ে পাওয়ার-প্লের ৬ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে ৬০ রান তুলে ফেলে ভারত।
আরও পড়ুন- বাংলাদেশ ক্রিকেটের ১০টি ঐতিহাসিক ঘটনা
পাওয়ার-প্লেতে দক্ষিণ আফ্রিকার একমাত্র সাফল্য অভিষেক শর্মার উইকেট। পাওয়ার-প্লের শেষ ওভারে তাকে ফেরান কর্বিন বশ। মার্করামের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১৮ বলে ৩৫ রান করেন অভিষেক।
পাওয়ার-প্লে শেষে কিছুটা দেখেশুনে খেলার চেষ্টা করেন গিল। তিন নম্বরে নামা তিলক ভার্মার সঙ্গে গড়েন ৩৮ বলে ৩২ রানের জুটি। ১২তম ওভারে ২৮ বলে ২৮ রান করা গিলকে বোল্ড আউট করে ফেরান মার্কো ইয়ানসেন। এরপর অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও বেশি সময় টিকতে পারেননি উইকেট। ১১ বলে ১২ রান করে বিদায় নেন তিনি।
আরও পড়ুন- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কঠিন গ্রুপে বাংলাদেশ, কবে-কখন মাঠে নামবে
সূর্যকুমার বিদায় নিলেও শিভাম দুবেকে নিয়ে ১৫.৫ ওভারেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিলক ভার্মা। ৩৪ বলে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিলক আর ৪ বলে ১০ রানে দুবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে একটি করে উইকেট পান লুঙ্গি এনগিডি, মার্কো ইয়ানসেন ও কর্বিন বশ।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পন করেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা। লম্বা করেন যাওয়া-আসার লাইন। পুরো ইনিংসে মাত্র তিনজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন। মার্করাম খেলেছেন ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪৬ বলে ৬১ রানের ইনিংস। ডনোভান ফেরেইরার ব্যাট থেকে এসেছে ১৫ বলে ২০ আর এনরিখ নরকিয়ার ব্যাট থেকে ১২ বলে ১২ রান।
প্রথম দুই ওভারেই দুই ওপেনারকে হারায় প্রোটিয়ারা। প্রথম ওভারে শূন্য রানেই বিদায় নেন রিজা হেনড্রিকস, এক রান করে দ্বিতীয় ওভারে সাজঘরের পথ দেখেন কুইন্টন ডি কক। পাওয়ার-প্লের মধ্যেই ৭ বলে ২ রান করে ফেরেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস।
পাওয়ার-প্লেতে ২৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিধ্বস্ত দক্ষিণ আফ্রিকা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে হারিয়েছে উইকেট। চতুর্থ উইকেটে ট্রিস্টান স্টাবসকে নিয়ে এইডেন মার্করামের প্রতিরোধ গড়ার শুরুতেই সেটি ভেঙ্গে দেন হার্দিক পান্ডিয়া। সপ্তম ওভারে স্টাবসকে ফিরিয়ে একশ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
বিশ্বের প্রথম পেস বোলিং অলরাউন্ডার ও পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অন্তত এক হাজার রান ও ১০০ উইকেটের ডাবল ছুঁলেন পান্ডিয়া।
একাদশ ওভারে কর্বিন বশের বিদায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর হয়ে যায় ৫ উইকেটে ৪৪ রান। ধ্বংস্তুপের মধ্যে দাঁড়িয়ে একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন মার্করাম। সাত নম্বরে নেমে তাকে কিছুটা সহায়তা করেন ডনোভোনা ফেরেইরা। তিনিও বেশি সময় উইকেটে টিকতে পারেননি। আশা দেখানো শুরুর পর ১৫ বলে ২০ রান করেই বিদায় নেন ফেরেইরা।
একপ্রান্ত আগলে রাখা মার্করাম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ফেরেন ১৯তম ওভারে। ৪৬ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। নয় নম্বরে নেমে ১২ বলে ১২ রানের ইনিংস খেলে দলীয় রান একশ ছাড়ান নরকিয়া।
ভারতের হয়ে সমান দুটি করে উইকেট শিকার করেন আর্শদ্বীপ সিং, হার্শিত রানা, বরুণ চক্রবর্তী ও কুলদীপ যাদব। একটি করে উইকেট যায় হার্দিক পান্ডিয়া ও শিভাম দুবের ঝুলিতে।