ববিচাসের অনুষ্ঠানে বাঁধা : শিক্ষার্থীদের মবসৃষ্টিকারী বলে প্রক্টরের কাছে অভিযোগ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা সংসদ (ববিচাস) আয়োজিত ‘সেইলর প্রেজেন্টস মাঘ মল্লার ২.০’ অনুষ্ঠান শেষ হবার পর মব সৃষ্টিকারী ও হামলাকারী আখ্যা দিয়ে কিছু শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ববিচাস লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেয় ববিচাসের সভাপতি সামিউল আলম ও সাধারণ সম্পাদক শুভ কুন্ড। অভিযোগপত্রে ঘটনায় অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগ পত্রে উল্লেখা করা হয়েছে, গত ১২ ডিসেম্বর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা সংসদ (ববিচাস) কর্তৃক আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান “সেইলর প্রেজেন্টস মাঘমল্লার ২.০” বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই কয়েকজন অনাবাসিক ও অছাত্র আবাসিক শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে লাঠিসোটা ও রড নিয়ে এবং অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং মব তৈরির উদ্দেশ্যে অপচেষ্টা চালায়।
অভিযোগে উল্লেখিত শিক্ষার্থীরা হলেন- সাজেদুল ইসলাম (২০১৭-১৮ সেশন, গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা), অনাবাসিক ফয়সাল বাদশা (২০১৮-১৯ সেশন, বোটানি), অনাবাসিক রফিক (২০১৮-১৯ সেশন, রসায়ন), মেহেদি (২০১৯-২০ সেশন, লোক প্রশাসন), আবদুল আলিম (২০২০-২১ সেশন, রসায়ন), ইমাম হাসান (২০২১-২২ সেশন, ইংরেজি), তানজিল আহমেদ রাকিব (২০২১-২২ সেশন, একাউন্টিং ইনফরমেশন সিস্টেম), এসএম ওয়াহিদুর রহমান (২০১৬-২০ সেশন, আইন)।
লিখিত অভিযোগে জানানো হয়েছে, এই অনাকাঙিক্ষত ও অতর্কিত ঘটনার ফলে ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও শিক্ষাবান্ধব সংস্কৃতির পরিপন্থী। ভিডিও ফুটেজ থেকে কিছু মব সৃষ্টিকারীর পরিচয় স্পর্শ দেখা যায়।
অভিযোগকারীরা বলেন, আমরা মনে করি- এ ধরনের মব সৃষ্টির চেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা, শিক্ষার পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য গুরুতর হুমকিস্বরূপ। তাই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
ঐদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যাক্ষদর্শী জানান, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন তূলনামূলক ছোট হওয়ায় মুক্তমঞ্ছ ও আবাসিক হলগুলো সব কাছাকাছি। এজন্য দীর্ঘরাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান করলে হলে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের সমস্যা সৃষ্টি হয়। শুক্রবারও রাত ১২ টার পর পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলায় হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা অস্বস্তি অনুভব করেন। এতে শেরে বাংলা ও বিজয় ২৪ হলের ৩০-৪০ শিক্ষার্থী উপস্থিত হয় এদের মধ্য কয়েকজন শিক্ষার্থীর হাতে লাঠি ছিল।
তারা বলেন, শিক্ষার্থীরা প্রবেশের পরপরই মাইকে ছাত্রদলের সভাপতি ঘোষণা দেন এরা কেউ আবাসিক শিক্ষার্থী নয় এরা বহিরাগত দুষ্কৃতকারী। এমন হটকারি বক্তব্যের পরই পরিস্থিতি উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তখন ছাত্রদল ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্য বাকবিতন্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। ধাক্কা ধাক্কির সময় ছাত্রদল সভাপতি বলে এরা সবাই শিবির, ববি শিবির এটা করছে। পরে তারা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মবকারি বলে মিছিল করে।
অভিযুক্ত এস এম ওয়াহিদুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ঐদিন রাত ১২ টার পরেও মুক্তমঞ্চে ববিচাস আয়োজিত অনুষ্ঠান উচ্চশব্দে চলতে থাকায় আবাসিক শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠি। এবিষয়ে একাধিকবার প্রক্টর ও হলের প্রভোস্টদের অভিযোগ দেয়ার পরেও প্রতিকার না পাওয়ায় আমরা ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থী ১২:১০ এর দিকে সেখানে যাই সমস্যার কথা জানানোর জন্য।
তিনি বলেন, কিন্তু ঘটনাস্থলে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মীরা আবাসিক শিক্ষার্থীদের দুষ্কৃতকারী আখ্যা দেয়ায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উল্টো তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রোণিতভাবে ববিচাস ও ছাত্রদল আবাসিক শিক্ষার্থীদেরকে মবকারি আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেয় যা ফ্যাসিবাদি আচরণ।
ববিচাস সভাপতি সামিউল আলম বলেন, আমাদের প্রোগ্রাম ১১:৩০ মিনিটে শেষ করার কথা থাকলেও কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে ১২:০৮ মিনিটে প্রোগ্রাম শেষ হয়। প্রোগ্রামের শেষ মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থী এসে আমাদের ওপরে হামলার চেষ্টা করে। কয়েকজনের হাতে লাঠিও ছিল। তাদের সমস্যা হচ্ছে, এটা তারা ভালোভাবে বলতে পারত। তারাও শিক্ষার্থী আমরাও শিক্ষার্থী, আমরা সহজভাবে সমাধান করতাম। কিন্তু তারা যে হামলা চেষ্টা করেছে আমরা তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি প্রক্টরের কাছে যথাযথ বিচার চাই।