জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে জাবিতে বিজয় দিবসের সূচনা
যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) এবং বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ভোর ৬টা ৩৩ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়।
উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জাতীয় পতাকা এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমানসহ শিক্ষক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সকাল ৮টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। তাঁর সঙ্গে উপ-উপাচার্যদ্বয়, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রব, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপাচার্য মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বলেন, “বিজয় দিবস আমাদের মুক্তি, স্বাধীনতা ও জাতি হিসেবে আত্মপরিচয়ের এক গর্বের দিন। এই দিনে আমাদের শপথ করতে হবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, একতাবদ্ধ থাকা এবং বৈষম্যমুক্ত ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার।”
তিনি আরও বলেন, “সবার আগে দেশ এবং আপামর জনসাধারণের কল্যাণ ব্রতই হোক মহান বিজয় দিবসে আমাদের অঙ্গীকার।”
এরপর শিক্ষক সমিতি, মহিলা ক্লাব, জাকসু’র ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু ও জিএস মো. মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে জাকসু নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন হল প্রাধ্যক্ষ, ছাত্র ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা ধারাবাহিকভাবে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।
বিজয় দিবস উপলক্ষে সকাল ৭টায় জাকসু’র ক্রীড়া সম্পাদক মাহামুদুল হাসান কিরণের উদ্যোগে সাড়ে সাত কিলোমিটার ‘বিজয় দিবস দৌড়’ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় জাকসু’র আয়োজনে বিজয় র্যালি এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রাঙ্কন ও চিত্র প্রদর্শনী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে উপাচার্য কাপ হ্যান্ডবল (ছাত্রী) প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে বেগম সুফিয়া কামাল হল ৫-৩ গোলে নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। খেলা শেষে উপাচার্য বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
এদিকে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের আয়োজনে এবং সন্ধ্যায় শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন নিজ নিজ উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করে।
এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য রাতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে, যা উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।