জাবি’র কামালউদ্দিন হলের প্রীতিভোজ নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি : প্রশাসনের দুঃখ প্রকাশ
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আ ফ ম কামালউদ্দিন হলে আয়োজিত প্রীতিভোজকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হলে দীর্ঘদিনের নন-অ্যালোটেড শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে আ ফ ম কামালউদ্দিন হলে প্রীতিভোজ আয়োজনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ নির্ধারণে বৈষম্য ও অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পরই তারা দুঃখ প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বৈষম্য না হওয়ার আশ্বাস দেয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে—বিশেষ করে ছাত্র হলগুলোতে—শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই নন-অ্যালোটেড শিক্ষার্থীদের বসবাস একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই সমস্যার সুনির্দিষ্ট সমাধান না থাকায় জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রীতিভোজের সময় জনপ্রতি ও মোট অর্থ বরাদ্দ নির্ধারণে জটিলতা সৃষ্টি হয়ে আসছে।
এ পরিস্থিতিতে বিজয় দিবসের প্রীতিভোজ উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রভোস্টদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নন-অ্যালোটেড শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ আবাসিক হল থেকে কুপন প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে প্রশাসন লক্ষ্য করেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হলে নন-অ্যালোটেড শিক্ষার্থীরা উন্নত মানের খাবার পেলেও আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরও জানায়, আ ফ ম কামালউদ্দিন হলে ৪৮ থেকে ৫২তম ব্যাচের বহু শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে নন-অ্যালোটেড হলেও শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই সেখানে বসবাস করে আসছেন। প্রীতিভোজে প্রত্যাশিত খাবার না পেয়ে তারা মানসিকভাবে ব্যথিত হন এবং বাধ্য হয়ে নিজেরাই হল প্রাঙ্গণে খাবার প্রস্তুত করেন।
বিষয়টি প্রশাসনের কাছে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলা হয়, বিজয় দিবসের মতো একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিনে ওই হলের নন-অ্যালোটেড শিক্ষার্থীদের কষ্ট পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ব্যথিত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য হল প্রাধ্যক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের সামনে দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অতীতের হল প্রশাসনের যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত প্রভোস্ট কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আ ফ ম কামালউদ্দিন হলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হলের নন-অ্যালোটেড সমস্যাটি আগামী ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেটের বিশেষ সভায় উপস্থাপন করা হবে। ওই সভায় বিষয়টির একটি যৌক্তিক ও স্থায়ী সমাধান নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।