ওসমান হাদীর মৃত্যুতে উত্তাল মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাস
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) ক্যাম্পাস। হত্যার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল চত্বর থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বের হন। মিছিলটি সন্তোষ বাজার প্রদক্ষিণ শেষে তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।
এ সময় তারা ‘তুমি কে আমি কে? হাদি, হাদি’, ‘দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা, ঢাকা’, ‘ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাও করো’ এবং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে আইসিটি বিভাগের ছাত্র তানভীর ইসলাম তামিম বলেন, হাদি ভাইকে বাংলাদেশ সরকার নিরাপত্তা দিতে পারে নাই। প্রকাশ্যে রাস্তায় আমার ভাইকে গুলি করে হত্যা করেছে। আল্লাহ তায়ালা আমার ভাইকে শহীদি মর্যাদা দান করুক। আমি বলতে চাই আমার ভাই আবরার মারা গেছে, হাদি মারা গেছে, এর পরে কে মারা যাবে? হাদি ভাই মারা গেছে, আমাদের শরীরে জান আছে। আল্লাহকে স্বাক্ষী রেখে বলতে চাই ভারতীয় আধিপত্য, বাংলাদেশে নব্য ফ্যাসিবাদ যারা কায়েম করতে চায় এবং শহীদ করতে চায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। তাকে গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের কালভার্ট রোডে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে যাওয়ার সময় গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এরপর গত সোমবার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু হয়।
এর আগে গতকাল বুধবার সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে হাদিকে দেখতে যান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান। পরে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তিনি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ফোন করে হাদির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানান, তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।