ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে পাবিপ্রবিতে বিক্ষোভ
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর মৃত্যুতে টানা দ্বিতীয় দিন বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) ক্যাম্পাস।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর পাবিপ্রবি কেন্দ্রীয় মসজিদে হাদীর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।
দোয়া শেষে দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফের বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্বাধীনতা চত্বরে সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। সেখানে বক্তারা হাদীর হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার এবং ক্যাম্পাসে ‘ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের’ বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও পাবনা শহর শাখা ছাত্রশিবিরের বর্তমান সভাপতি গোলাম রহমান জয় বলেন, “শহীদ ওসমান হাদী ভাই একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি শহীদি মৃত্যুকেই সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে তামান্না করতেন। আদিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক মানুষ বাংলাদেশের মাটিতে হাজারে একজনও পাওয়া যায় না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা এমন একজন মূল্যবান মানুষকে ধরে রাখতে পারিনি, তাকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছি। রাষ্ট্র ও প্রশাসন তাকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে পারেনি।”
তিনি বলেন, “প্রশাসনের অনেকেই সেই স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলের সুবিধাভোগী। আমরা সেই স্বৈরাচারের রাজত্বের ভিত্তি ভেঙে দেবো ইনশাল্লাহ। অত্যাচারের ভিত আমরা চূর্ণ করবো। আজ যারা দেশপ্রেমিক, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলে তাদেরকেই পরিকল্পিতভাবে টার্গেট কিলিংয়ের শিকার করা হচ্ছে। তাই বিপ্লবীদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে।”
পাবিপ্রবি ইনকিলাব মঞ্চের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মজনু আলম বলেন, “হাদী ভাইকে শহীদ করার মাধ্যমে খুনিরা যদি মনে করে, আমাদের বিপ্লবীদের ভয় পাইয়ে দিয়েছে— তবে তাদের উদ্দেশে বলতে চাই আপনারা ভুল ভাবছেন। আমরা হাদী ভাইয়ের আদর্শ ও ইনসাফ কায়েমের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। হাদীদের হত্যা করা যায় না; আমরা সবাই হাদী হবো। হাদী ভাইয়ের খুনি ও জুলাইয়ের খুনীদের ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত ভারতের দূতাবাস বন্ধ থাকতে হবে।”
এদিকে ওসমান হাদীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, দোষীদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।