ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে জাবি ক্যাফেটেরিয়ায় ‘দাম নৈরাজ্য’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষা রোববার (২১ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে আগত ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভর্তি পরীক্ষার প্রথম দিন থেকেই ক্যাম্পাসের ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের দামে হঠাৎ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। এতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দেয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, ভর্তি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। “জাবির সকল সংবাদ” নামক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ফেসবুক গ্রুপে এ সংক্রান্ত একাধিক পোস্ট দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন- শিফট প্রথার নেতিবাচক প্রভাব : সন্ধ্যা পর্যন্ত জাবিতে ভর্তি পরীক্ষা, ভোগান্তিতে ভর্তিচ্ছুরা
পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৫২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসের ছাত্রদল কর্মী আবিদুর রহমান তার পোস্টে লেখেন, “ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের দাম বাড়িয়েছে কেন?? ডিম খিচুড়ি ৬০ টাকা। প্রশাসন সরাসরি জড়িত। এই টাকা কোথায় যায়?”
পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ক্যাফেটেরিয়ায় প্রায় সব খাবারের দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রতিবারই ভর্তি পরীক্ষার সময় এমনটি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ভর্তিচ্ছুরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
একই পোস্টে মন্তব্য করে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন বলেন, কয়েকদিন আগেও ক্যাফেটেরিয়ায় পোলাও-রোস্ট ৭০ টাকায় পাওয়া গেলেও ভর্তি পরীক্ষার দিন সেটি ১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া কাটলেটের দাম ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মুছা জানান, বর্তমানে ক্যাফেটেরিয়ায় ডিম ভাত ৪০ টাকা ও কাটলেট ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, “এই দামে ক্যাম্পাসের বাইরে ভালো মানের খাবার পাওয়া যায়। অথচ ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান তুলনামূলকভাবে খারাপ।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাকসুর খাদ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক হুসনী মোবারক বলেন, সারাদিন ব্যস্ত থাকায় তিনি ক্যাফেটেরিয়ায় যেতে পারেননি। সন্ধ্যার পর অভিযোগ পেয়ে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি জানান, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে আগামীকাল থেকে ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের একটি যৌক্তিক মূল্যতালিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ক্যাফেটারিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের উপ-পরিচালক মো. সারোয়ার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো মূল্য আদায় করা হয়নি। ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য যে মূল্য নেওয়া হয়েছে, তা প্রশাসন থেকে নির্ধারণ করা।
তিনি আরও বলেন, ভর্তি পরীক্ষার সময় ক্যাফেটেরিয়ায় অতিরিক্ত লোকবল নিয়োগ দিতে হয় এবং তাদের বেতন-ভাতা ক্যাফেটেরিয়াকেই বহন করতে হয়। এই ব্যয় সামাল দিতেই সামান্য অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তুকি দিলেও ভর্তিচ্ছু ও অভিভাবকদের জন্য সে সুবিধা প্রযোজ্য নয়।