শীতকালীন ছুটিতে মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরা
শীতকালীন ছুটিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ঘরমুখো হয়েছেন মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ দিন ক্লাস, এসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশনের ক্লান্তি শেষে পরিবার ও প্রিয়জনের কাছে ফেরার আনন্দ যেমন আছে, তেমনি বন্ধুবান্ধব ও ক্যাম্পাস ছাড়ার এক নীরব বিষণ্নতাও চোখে পড়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে।
২৫ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছুটির ঘোষণা আসার পর থেকেই ক্যাম্পাসে দেখা যায় ব্যস্ততা। ব্যাগ গোছানো, বন্ধুদের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের আড্ডা, ছবি তোলা ও বিদায়ের আলিঙ্গনে মুখর হয়ে ওঠে হল ও ক্যাম্পাস এলাকা। কেউ ট্রেন ধরতে ছুটছেন, কেউ আবার বাস টার্মিনালের পথে।
হিসাববিজ্ঞান বিভাগে তাহমিদ হাসান প্রাঞ্জল বলেন, “ছুটি মানেই প্রিয় ঘরে ফেরার স্বস্তি, মায়ের হাতের রান্না আর নিজের বিছানায় গা এলিয়ে দেওয়ার আনন্দ। কিন্তু হল বা মেসের এই রুমটা আর বন্ধুদের আড্ডার মায়া কাটিয়ে যাওয়াটাও যেন অনেক কষ্টের। ক্যাম্পাস আমাদের দ্বিতীয় বাড়ি, আর বন্ধুরা হলো সেই বাড়ির বেছে নেওয়া পরিবার। এক বাড়ির টানে অন্য বাড়িকে বিদায় জানানোর এই অনুভূতিটা সত্যিই বড় অম্লমধুর।”
তিনি আরও বলেন, “ঘরমুখো ট্রেনের টিকিট হাতে যেমন স্বস্তি, বন্ধুদের থেকে বিদায় নেওয়ার সময় ঠিক তেমনই বিষণ্ণতা। দুই বাড়ির মাঝে এক অদ্ভুত টানাপোড়েন। শিকড়ের টানে বাড়ি ফিরছি ঠিকই, কিন্তু মনের একটা অংশ রয়ে গেল ক্যাম্পাসের ওই চায়ের আড্ডায় আর বন্ধুদের হাসিতে।”
পদার্থ বিভাগের রাকিবুল ইসলাম বলেন, “সেমিস্টারজুড়ে পড়াশোনার চাপ অনেক থাকে। অনেকদিন পর শীতকালীন ছুটিতে পরিবারকে সময় দিতে পারবো, পাশাপাশি নিজের উপর পুরো সেমিস্টারের অতিরিক্ত চাপ থেকে মুক্তি পেয়ে রিফ্রেশমেন্টের এই সুযোগটা কাজে লাগাবো। নিজের সবকিছুই অগোছালো হয়ে আছে, তো এই ব্রেক শেষে নতুন উদ্যমে আবার সব কিছু শুরু করার চেষ্টা করবো।”
ছুটি শেষে আবারও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠবে ক্যাম্পাস এই আশায় শিক্ষার্থীরা আপাতত প্রিয় ক্যাম্পাসকে বিদায় জানাচ্ছেন। স্মৃতির ঝাঁপি আর ঘরের টানে, শীতের ছুটিতে তারা ফিরে যাচ্ছেন আপন ঠিকানায়।