দীর্ঘ নির্বাসন-সংগ্রাম পেরিয়ে আজ স্বদেশে ফিরছেন তারেক রহমান
নির্যাতন, কারাবাস আর দীর্ঘ ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আজ ২৫ ডিসেম্বর স্বদেশের মাটিতে পা রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ।
২০০৭ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার হওয়ার পর অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হন তারেক রহমান। দেড় বছরের বেশি সময় কারাবাসের পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান। প্রবাসে থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলার খড়গ থামেনি; আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে ৭২টি মামলা দেওয়া হয়। যার মধ্যে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাসহ কয়েকটিতে তাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছিল।
তবে সম্প্রতি উচ্চ আদালত তাঁকে এসব মামলা থেকে সসম্মানে খালাস দিয়েছেন। সুদূর লন্ডনে থেকেও ভার্চুয়ালি দলের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সুসংগঠিত করে তিনি নিজেকে এক অপরিহার্য নেতা হিসেবে প্রমাণ করেছেন। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও তাঁর দিকনির্দেশনা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তারেক রহমানের সঙ্গে ফিরছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। গতকাল বুধবার লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা) হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। ঢাকায় আসার পথে উড়োজাহাজটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ঘণ্টার বিরতি দেবে।
তারেক রহমানকে বরণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বিমানবন্দরের বাইরে অবস্থান করবেন হাজার হাজার নেতা-কর্মী। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে নামার পর তারেক রহমানের প্রথম অগ্রাধিকার হলো গুরুতর অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যাওয়া।
তবে লাখো মানুষের আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যাত্রাপথের মাঝখানে রাজধানীর ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট) এলাকায় স্থাপিত মঞ্চে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন।
৩০০ ফিট এলাকার সংক্ষিপ্ত গণঅভ্যর্থনা শেষে তারেক রহমান সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন মা বেগম খালেদা জিয়ার পাশে কিছুক্ষণ একান্তে সময় কাটাবেন। হাসপাতাল থেকে বের হয়ে তিনি গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসভবনে উঠবেন বলে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তাঁর এই ফিরে আসা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।