হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল শাহবাগ
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীর শাহবাগ মোড়। খুনিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে আজ শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেল থেকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রেখেছেন হাজারো মানুষ। বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আজ সারা রাত তারা শাহবাগেই অবস্থান করবেন।
আজ জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃত্বে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শাহবাগ মোড়ে আসার পর সেখানেই বসে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এর ফলে মৎস্য ভবন, বাংলামোটর, কাঁটাবন ও টিএসসি—সব কটি অভিমুখে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
সন্ধ্যার পর শাহবাগ মোড় এলাকা অন্ধকার হয়ে গেলে বিক্ষোভকারীরা তাদের মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এ সময় শাহবাগের আকাশে-বাতাসে ‘তুমি কে আমি কে—হাদি হাদি’, ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ্য হাদি লড়াই করে’, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’ এবং ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা ঢাকা’—এমন নানা প্রতিবাদী স্লোগান দিচ্ছেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে ওসমান হাদির ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে হামলার ১৪ দিন পার হলেও মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, “আমরা কোনো ফাঁকা আশ্বাস চাই না। আমরা খুনিদের গ্রেপ্তার দেখতে চাই। যতক্ষণ পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না, ততক্ষণ শাহবাগ থেকে কেউ নড়বে না।”
সন্ধ্যা ৬টার দিকে সংগঠনের ফেসবুক পেজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাতভর অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
শরীফ ওসমান হাদি একাধারে শিক্ষক, লেখক এবং বলিষ্ঠ রাজনৈতিক সংগঠক ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত ‘ইনকিলাব মঞ্চের’ আহ্বায়ক হিসেবে তিনি দেশজুড়ে পরিচিতি পান। বিশেষ করে জুলাইয়ের শহীদদের অধিকার রক্ষা, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে লড়বেন বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হলেও গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তাঁর মৃত্যুতে সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসার পাশাপাশি বিচার দাবিতে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।