লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ বেশ কিছু লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) এই হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। জেরুজালেম থেকে এ খবর নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, হিজবুল্লাহর সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও অস্ত্র মজুত করার স্থানগুলো লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। ইসরাইলের ওপর সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে এই স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা জরুরি ছিল বলে তাদের দাবি। সেনাবাহিনী আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হতে পারে এমন যেকোনো কিছু তারা নিশ্চিহ্ন করে দেবে।
গত নভেম্বরে ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘ এক বছরের সংঘাত বন্ধে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু সেই চুক্তির পরও লেবাননে ইসরাইলি হামলা থামেনি। বরং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি এলাকায় এখনো ইসরাইলি সেনা মোতায়েন রয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন- ট্রাম্পের সঙ্গে শিগগিরই বৈঠক হবে : জেলেনস্কি
শুক্রবারের এই হামলার মাত্র এক দিন আগে সিরিয়া সীমান্ত ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ইসরাইলি বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের অভিজাত কুদস ফোর্সের একজন উচ্চপদস্থ সদস্যকে লেবাননে এক হামলায় হত্যা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল চাপের মুখে লেবানন সরকার সীমান্ত সংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চল থেকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লিতানি নদীর দক্ষিণ পাশ থেকে হিজবুল্লাহর অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার কাজ বছরের শেষ নাগাদ শেষ হবে।
তবে ইসরাইল অভিযোগ করছে যে, হিজবুল্লাহ গোপনে পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহ করছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।