রাজনৈতিক আনুগত্যে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন জাবি উপাচার্য
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান নিরাপত্তা বাহিনীর ধাক্কার শিকার হয়েছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে ফেরার সময় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় গেট এলাকায় তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে এগোতে গেলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উপাচার্যকে বাধা দেন। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কেন প্রকাশ্য রাস্তায় রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে দেখা করতে যাবেন—এ প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাহাদী বলেন, “মাসখানেক আগে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে গেলে ভিসি স্যার বলেছিলেন—তিনি কোনো ‘রাস্তার উপাচার্য’ নন। আজকের ঘটনায় সেই বক্তব্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে। সেদিনের মতো আজও যদি তিনি দৃঢ় অবস্থান দেখাতেন, তাহলে জাবি শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের লজ্জা পেতে হতো না।”
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৫১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী কাজী মেহরাব তূর্য তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “শৈশব থেকে মার খেয়ে, পড়াশোনা করে, দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে, বিদেশ থেকে মাস্টার্স ও পিএইচডি করে, আন্দোলন-সংগ্রাম পেরিয়ে ভিসি হওয়ার পর যদি একজন কনস্টেবলের কাছে ধাক্কা খেতে হয় শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাকে দেখতে গিয়ে—তাহলে সেই পুরো জার্নির মানে কী?”
তিনি আরও লেখেন, “একজন অশিক্ষিত কিন্তু আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ একজন শিক্ষিত কিন্তু আত্মমর্যাদাহীন মানুষের চেয়ে উত্তম—এখানে কোনো বিতর্ক নেই।”
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিক বলেন, “তিনি সেখানে শিক্ষক বা উপাচার্য হিসেবে যাননি, গিয়েছিলেন দলের একজন কর্মী হিসেবে। তিনি একজন শিক্ষক হওয়ার পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী দলের একজন নিবেদিত কর্মী। চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তা জোরদার থাকায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এটাকে ভিন্নভাবে দেখার কিছু নেই।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এর আগে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, “খালেদা জিয়া প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং তারেক জিয়া প্রথম শিশু মুক্তিযোদ্ধা।” এই মন্তব্যের পর থেকেই তাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক চলমান।