জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়ার কারণ জানালেন নাহিদ ইসলাম
আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচন ও সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলের জোটে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
জোটবদ্ধ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের পরাজিত শক্তিরা এখনো চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য জুলাই প্রজন্মকে নিঃশেষ করা। আজ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়েছে, কাল অন্য কারো ওপর হামলা হতে পারে। জুলাই অভ্যুত্থানে যারা অংশ নিয়েছে—সেই তরুণ, সাধারণ নাগরিক, শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধারাই এখন প্রধান টার্গেট। এই আধিপত্যবাদী শক্তির অগ্রযাত্রা ঠেকাতে এবং একটি সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে বৃহত্তর ঐক্যের বিকল্প নেই।”
আরও পড়ুন- জামায়াতের সঙ্গে জোট : নাহিদ ইসলামকে এনসিপির ৩০ নেতার চিঠি
তিনি আরও জানান, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলীয় ফোরামে বিস্তারিত আলোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সমমনা দলগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি। আধিপত্যবাদ রুখতে তাদের নির্বাচনি সমঝোতার প্রস্তাবে আমরা সম্মত হয়েছি এবং একত্রে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
এনসিপির ৩০ নেতার বিরোধিতা বা দলে ভাঙনের আশঙ্কা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, “যেকোনো বড় সিদ্ধান্তে ভিন্নমত বা বিরোধিতা থাকতে পারে, এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ। তবে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। কেউ নির্বাচনে করবেন কি না বা দলে থাকবেন কি না, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তবে আমি বিশ্বাস করি, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সিংহভাগ নেতাকর্মী এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন।”
আরও পড়ুন- এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন তাসনিম জারা
এর আগে বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি ও এলডিপির জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
তিনি জানিয়েছিলেন, নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই এই সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে। এনসিপি নিজেদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবে—আমিরের এমন বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই বাংলামোটরে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি এলো।