দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই তারেক রহমানের
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তাঁর হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তিনি কেবল বাংলাদেশেরই নাগরিক। তাঁর অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব নেই বা অতীতেও তিনি কখনো বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ৫৭ বছর বয়সী তারেক রহমান শিক্ষাগত যোগ্যতায় উচ্চমাধ্যমিক পাস। ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তাঁর মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা ও নগদ রয়েছে ৩১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, এফডিআর ৯০ লাখ ২৪ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন শেয়ার বা বন্ড রয়েছে ৬৮ লাখ টাকার।
এছাড়া তাঁর অকৃষিজমির পরিমাণ দুই একরের কিছু বেশি, যার অর্জনকালীন মূল্য ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। উল্লেখ্য যে, তারেক রহমান বা তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের নামে কোনো ব্যাংক ঋণ নেই।
তারেক রহমানের স্ত্রী চিকিৎসক জুবাইদা রহমানের ২০২৫-২৬ করবর্ষে আয় হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা, যার সিংহভাগই (৬৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা) ব্যাংক ও নগদ আকারে রয়েছে। জুবাইদা রহমানের নামে বর্তমানে কোনো স্থাবর সম্পদ নেই।
হলফনামায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, তারেক রহমানের নামে এখন কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। ২০০৪ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ৭৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যা ধাপে ধাপে নিষ্পত্তি হয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে কোনোটিতে তিনি খালাস পেয়েছেন, কোনোটি খারিজ হয়েছে আবার কোনোটি থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।
তথ্যমতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই তিনি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। ২০০৭ সালে জরুরি ক্ষমতা আইনে করা একটি মামলায় ২০০৯ সালেই তিনি বেকসুর খালাস পেয়েছিলেন। এছাড়া গত কয়েক বছরেও ধারাবাহিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হয়েছে।
বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তাঁর এই নির্বাচনী অংশগ্রহণ তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।