ডা. তাসনিম জারার মনোনয়ন বাতিল
ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে নামা ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। নথিপত্রে তথ্যের অমিল ও আইনি জটিলতার কারণে আজ শনিবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে তাঁর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন আলোচিত এই প্রার্থী।
নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ওই আসনের মোট ভোটারের অন্তত ১ শতাংশের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা জমা দিতে হয়। ডা. তাসনিম জারা গত ২৯ ডিসেম্বর প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহ করে তা জমা দিয়েছিলেন। মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, কমিশন থেকে দৈবচয়ন ভিত্তিতে ১০ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৮ জনের তথ্যে কোনো সমস্যা না থাকলেও ২ জনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে তাঁরা ঢাকা-৯ আসনের ভোটার নন।
আরও পড়ুন- দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই তারেক রহমানের
তাসনিম জারা বলেন, “আমরা প্রয়োজনের চেয়েও বেশি স্বাক্ষর জমা দিয়েছিলাম। ভোটারদের বিভ্রান্তির কারণেই এই ভুলটি হয়েছে। একজন ভোটার তাঁর এনআইডি কার্ডের ঠিকানা অনুযায়ী নিজেকে ঢাকা-৯ এর ভোটার ভাবতেন। অন্যজন খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা, যার এলাকাটি ঢাকা-৯ ও ঢাকা-১১ আসনের সীমানায় পড়েছে। তিনি নিজেকে ঢাকা-৯ এর ভোটার জানলেও কমিশনের রেকর্ডে তিনি ঢাকা-১১ এর ভোটার।”
তিনি বলেন, “দশজনের মধ্যে আটজনের তথ্যই সঠিক পাওয়া গেছে। আমরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করব। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার রাজনীতি গড়ার যে লড়াইয়ে আমরা নেমেছি, তা অব্যাহত থাকবে।”
ডা. তাসনিম জারা আগে নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র (এনসিপি) সাথে যুক্ত থাকলেও পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ‘ক্রাউডফান্ডিং’-এর মাধ্যমে নির্বাচনের খরচ সংগ্রহের ঘোষণা দিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আজ ও আগামীকাল দেশের সব আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলবে। ডা. তাসনিম জারার মতো যাঁদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তাঁরা ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে ইসিতে আপিল করতে পারবেন। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।