আওয়ামী লীগের সমালোচনার কারণেই হত্যা করা হয় ওসমান হাদিকে
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার মূল কারণ ছিল পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের কড়া সমালোচনা এবং ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করতে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এ কথা বলেছেন।
হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, “ওসমান হাদি নতুন ধারার রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারের কথা বলতেন। তিনি নিয়মিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অপকর্মের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। বিশেষ করে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার পেছনে তাঁর ভূমিকার কারণেই তাঁকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।”
আরও পড়ুন- ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না জাতিসংঘ
এই হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতা হিসেবে সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার তাইজুল ইসলাম বাপ্পীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলেও তিনি জানান।
চার্জশিটভুক্ত ১৭ জন আসামির মধ্যে ১২ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ ৫ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। পলাতক অন্য আসামিরা হলেন— ফয়সালের বোন জেসমিন, সাবেক কমিশনার বাপ্পী, আলমগীর ও ফিলিপ।
শফিকুল ইসলাম আরও জানান, প্রধান আসামি ফয়সাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও বার্তা দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও ডিবির কাছে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। এমনকি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, রিকশা ও অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের মেঘালয়ে এই মামলার দুই আসামি গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন ডিবি প্রধান। তিনি জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে ইনকিলাব মঞ্চ এবং হাদির পরিবার পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে।
চার্জশিটভুক্ত ১৭ জন হলেন- ফয়সাল করিম মাসুদ (রাহুল), আলমগীর হোসেন, তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ফিলিপ স্নাল, মুক্তি মাহমুদ, জেসমিন আক্তার, হুমায়ুন কবির, হাসি বেগম, সাহেদা পারভীন সামিয়া, ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, মারিয়া আক্তার লিমা, মো. কবির, নুরুজ্জামান উজ্জ্বল, সিবিয়ন দিও, সঞ্জয় চিসিম, আমিনুল ইসলাম রাজু এবং মো. ফয়সাল।