চবিতে শিক্ষক হেনস্তার ঘটনায় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নিন্দা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের এক শিক্ষককে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে প্রকাশ্যে হেনস্তা, টেনেহিঁচড়ে অফিসে প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, এ ধরনের ঘটনা শিক্ষাঙ্গনে ভয়াবহ নজির সৃষ্টি করেছে এবং এটি শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা মনে করে, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা নিরসনের একমাত্র পথ হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, প্রশাসনিক বিধি ও ন্যায়বিচারভিত্তিক প্রক্রিয়া—কোনোভাবেই ‘মব জাস্টিস’ গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠনের কিছু সদস্য ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে শিক্ষকদের হুমকি, অপমান ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার যে সংস্কৃতি চালু করেছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আর শিক্ষক-শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবেশে ফিরতে পারবে না।
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষকদের স্বাধীন মতপ্রকাশ, একাডেমিক চর্চা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার নামে যদি কোনো পক্ষ ক্ষমতার দাপট দেখায়, তবে তা নতুন এক ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির জন্ম দেবে। সংগঠনটি শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেয়।