জাবিতে অনুষ্ঠান সূচি নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠান সূচী লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে প্রশাসন কতৃক আয়োজন করা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাত দশটায় শেষ করার কথা থাকলেও (প্রকাশিত অনুষ্ঠানসূচী অনুযায়ী) তা শেষ হয় রাত প্রায় দেড়টায়।
পাশাপাশি রাত ১০টার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও সেই নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় ৫৫ বছর পূর্তিতে প্রশাসন কতৃক আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাত দশটায় শেষ করার কথা থাকলেও তা শেষ করতে ব্যর্থ হয় প্রশাসন। পাশাপাশি বহিরাগত প্রবেশ কঠোরভাবে নিষেধ থাকলেও অনুষ্ঠানে বহিরাগতদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত বছরের ১৫ নভেম্বর জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাত ১০টার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
একই সঙ্গে রাত ১০টার পর অনুষ্ঠান চললে আয়োজকদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। কিন্তু ওই নির্দেশনার প্রায় দুই মাস পরই প্রশাসনের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাত প্রায় দেড়টা পর্যন্ত চলতে দেখা যায়। অনুষ্ঠানে গান, নৃত্য ও মাইক ব্যবহারের কারণে আশপাশের আবাসিক হল ও এলাকায় শব্দদূষণের অভিযোগও ওঠে।
এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী প্রশ্ন তুলেছেন, “রাত ১০টার পর কোনো শিক্ষার্থী সংগঠন বা বিভাগ অনুষ্ঠান করলে যদি তা নিষিদ্ধ হয়, তাহলে প্রশাসন নিজেরাই কীভাবে সেই নিয়ম ভাঙে?” কেউ কেউ এটিকে “দ্বিমুখী নীতি” বলে আখ্যায়িত করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “প্রশাসন নিয়ম করে, আবার নিজেরাই সেই নিয়ম ভাঙে—এতে নিয়মের প্রতি সম্মান নষ্ট হয়। তাহলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের ওপর এই নিয়ম কীভাবে প্রয়োগ করা হবে?”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, সাংস্কৃতিক আয়োজনটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে উপলক্ষ করে। এটি আমাদের সকল শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত ছিল। এটি গভীর রাত পর্যন্ত চলায় একে তিনি আইনের ভঙ্গ হিসেবে দেখছেন না।
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির জন্মদিন অনুষ্ঠান যেমন গভীর রাত পর্যন্ত চলে, এটিও ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তাই এখানে আইনের কোনো ভঙ্গ হয়নি বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, “বিশ্ববিদ্যালয় দিবস” উপলক্ষে আয়োজন করা নানা অনুষ্ঠান সূচিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাত ১০ টার মাঝেই শেষ করার কথা উল্লেখ ছিল।