ক্লাসরুম সংকটে জাবি’র ইংরেজি বিভাগ, প্রশাসনের নীরবতায় অবস্থান কর্মসূচি
বৈষম্য নিরসন ও ক্লাসরুম সংকট সমাধানের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বারবার আলোচনার পরেও রুম সংকট সমাধান না হওয়ায় এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বেলা পৌনে ১২টায় নতুন কলাভবন থেকে মিছিল নিয়ে রেজিস্ট্রার ভবনে গিয়ে পরবর্তীতে সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী।
এ সময় তারা ‘জ্বালোরে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘ইংরেজি বিভাগের রুম কোথায়, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আমাদের প্রতি বৈষম্য কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘পড়ালেখার সুযোগ চাই, দিতে হবে দিতে হবে’, ‘ক্লাস করার রুম চাই, দিতে হবে দিতে হবে’, ‘আমাদের সাথে টালবাহানা, চলবেনা চলবেনা’, ‘প্রশাসনের মূলা, মানিনা মানবোনা’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে।
ইংরেজি বিভাগের ৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেনের সঞ্চালনায় অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন।
এ সময় বিভাগের ৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী তাহমিনা বিনতে তৃশা বলেন, আমরা প্রশাসনের সাথে শান্তিপূর্ণ আলোচনা করেছি। কিন্তু এই পর্যন্ত আমরা এর কোনো সমাধান পাইনি। এই জুলাই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে কিছু জিনিসে পরিবর্তন আনার কথা থাকলেও আমরা সেগুলোর কোনো ফলাফল দেখছি না।
তিনি বলেন, যে বিষয়গুলোর ফলাফল আমরা দেখতে চেয়েছিলাম তার মধ্যে ইংরেজি বিভাগের ক্লাসরুম সংকট একটি। বিভিন্ন বিভাগের রুম দেয়া হলেও তাদের জন্য আলাদা ভবন নির্মাণের কথা থাকলেও ইংরেজি বিভাগের ক্ষেত্রে প্রশাসন নীরব। এই নীরবতা আজকে আমাদেরকে এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে।
৫০ তম আবর্তনের আরেক শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, আমরা ইংরেজি বিভাগের ক্লাসরুম সংকটের অনিয়মের কথা ক্যাম্পাসে আসার পর থেকে বারবার উচ্চারণ করলেও আমাদেরকে বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছে এই ক্লাসরুম সংকট খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করা হবে। কিন্তু আজকে এতগুলো বছর পেরিয়ে গিয়েছে আমাদের ক্লাসরুম সংকট সমাধান হয়নি। বরং আশেপাশের ডিপার্টমেন্টগুলো আমাদের ক্লাসরুম ভাগ করে নিয়ে চলে গিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের একটা দাবি ছিল যে জাকসু হওয়া। সে জাকসু হয়েছে এবং সেই জাকসু’র মাধ্যমে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত প্রশাসন আমাদেরকে এই ক্লাসরুম সংকটের বিষয়ে কোনভাবে সমাধান দিতে পারেনি। আমাদের এ সংকট দূর না করা পর্যন্ত আমাদের এ অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।
বিভাগের ৫৩ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী চিশতি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে ক্লাসের জায়গা পায় না। আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটি ক্লাসে ক্লাস চলাকালীন বাইরে আরেকটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
তিনি বলেন, আমাদের বিভাগের বড় ভাইরা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকলে ছোট ভাইদের ক্লাস থেকে বেরিয়ে যেতে হয়। আমরা বরাবরই আমাদের বিভাগের জন্য যে অনিয়মটি লক্ষ্য করছি তা হলো আমাদের ক্লাসরুমের সংকট।
উল্লেখ্য, এর আগেও বেশ কয়েকবার আলোচনায় ও বিক্ষোভ মিছিল করে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।