নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সক্ষমতায় ইবিতে সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ
“আত্মবিশ্বাসে আত্মরক্ষা” স্লোগানকে সামনে রেখে পরিবেশবাদী যুবসংগঠন ‘গ্রীন ভয়েস’র নারী ও শিশু অধিকার বিষয়ক অঙ্গসংগঠন ‘বহ্নিশিখা’র উদ্যোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শুরু হয়েছে ৭ দিনব্যাপী “আত্মরক্ষা কৌশল ও আত্মবিশ্বাস উন্নয়ন” বিষয়ক কর্মশালা।
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই ৩৬ হলে আয়োজিত এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ৭০ জন ছাত্রীর অংশগ্রহণে ২১ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এ কর্মশালার চলবে। যেখানে প্রশিক্ষণের বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে আত্মরক্ষার কৌশল, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, আত্মবিশ্বাস উন্নয়ন ও মেন্টাল হেলথ সেশন।
এ বিষয়ে বহ্নিশিখা’র সমন্বয়কারী মায়মুনা সুলতানা মিম বলেন, বাংলাদেশের প্রথম পরিবেশবাদী যুবসংগঠন গ্রীন ভয়েস-এর নারী ও শিশু অধিকার বিষয়ক অঙ্গসংগঠন বহ্নিশিখার উদ্যোগে এবং “বলীয়ান নারী” কার্যক্রমের সহযোগিতায় এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কর্মশালায় নারীদের আত্মরক্ষা কৌশল, নিরাপত্তা সচেতনতা, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা এবং মেন্টাল হেলথ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আজ জুলাই ৩৬ হল প্রাঙ্গণে উদ্বোধনের মাধ্যমে কর্মশালার কার্যক্রম শুরু হয়। আমরা মনে করি এই প্রশিক্ষণ নারীদের আত্মবিশ্বাসী ও সচেতন হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গ্রীন ভয়েস’র ইবি শাখার সভাপতি মো: ইমতিয়াজ আহাম্মেদ ইমন বলেন, একজন নারীকে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, জ্ঞানগত ও অর্থৈনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার একটি বলিষ্ঠ প্রয়াস হচ্ছে বহ্নিশিখা। ১৫ জুন ২০২০ সাল থেকে বহ্নিশিখা দেশজুড়ে কাজ করে যাচ্ছে তারই ধারাবাহিকতায় ইবি ক্যাম্পাসে আজ থেকে আত্মরক্ষা কৌশল ও আত্মবিশ্বাস উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণ নারীদের আত্মরক্ষা কৌশল ও আত্মবিশ্বাস উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে আশা করছি।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ‘মানুষ মূলত সমাজের দুইটি প্রধান সদস্যে বিভক্ত—নারী ও পুরুষ। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা নারী ও পুরুষ উভয়কেই সমানভাবে হিউম্যান বিং হিসেবে বিবেচনা করি। তবুও সামাজিক বাস্তবতায় পরিচয় ও ভূমিকার ভিন্নতার কারণে আমরা তাদেরকে লিঙ্গভিত্তিকভাবে নারী ও পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করে থাকি।’
‘পৃথিবীর আদিকাল থেকে সমাজব্যবস্থায় আমরা যেভাবে দেখি যে- একটি অংশ অগ্রসরমান অবস্থায় আছে আর একটি অংশ ততটা অগ্রসর হতে পারেনি। এই না পারার কারণে অনেক ধরনের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কারণ আছে। সেখানে আমরা দেখি- মানসিকভাবে, শারিরীকভাবে, সামাজিকভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে নারী সমাজ পিছিয়ে রয়েছে।’- যোগ করেন তিনি।