আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন : কোন দিকে যাবে আওয়ামী লীগের ভোট?
দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে রাজনীতির মাঠের বাইরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই দলটির। টানা প্রায় ১৭ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা দলটির একটি বিশাল ভোটব্যাংক থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আওয়ামী লীগের সেই ভোটাররা এবার কাকে ভোট দেবেন, নাকি তারা ভোটকেন্দ্রেই যাবেন না?
বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের সমর্থকগোষ্ঠী একমুখী নয়। এখানে যেমন রয়েছে আদর্শিক ও ঐতিহাসিকভাবে দলটির প্রতি অনুগত ভোটার, তেমনি রয়েছে উন্নয়ন ও সুযোগ–সুবিধাভিত্তিক ভোটার, ক্ষমতার ধারার সঙ্গে থাকতে আগ্রহী অংশ এবং পরিবর্তনমুখী তরুণ সমাজ। ফলে এই ভোট একদিকে গিয়ে পড়বে—এমন সম্ভাবনা কম।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপি ছিল দেশের সর্ববৃহৎ বিরোধী দল। জামায়াত দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা ছিল এবং আওয়ামী লীগ তাদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দল হিসেবে চিহ্নিত করত।
এদিকে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত এনসিপি জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পতনে সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়া দলের অন্যতম হিসেবে পরিচিত। ফলে তরুণ ও পরিবর্তনমুখী ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে দলটি আলাদা আলোচনায় রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোটের একটি বড় অংশ যেতে পারে সেই দল বা প্রার্থীদের দিকে, যাদের ভবিষ্যতে ক্ষমতার কাছাকাছি মনে হবে। বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় অনেক ভোটার আদর্শের চেয়ে প্রভাব, নিরাপত্তা ও বাস্তব সুবিধাকে বেশি গুরুত্ব দেন।
দলীয় প্রার্থী না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বড় সুবিধা পেতে পারেন। অনেক এলাকায় ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সামাজিক ভূমিকা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দলীয় পরিচয়ের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।
আওয়ামী লীগের কিছু ভোট বিএনপি ও জামায়াতের দিকে যেতে পারে, বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা দলগুলোকে সুযোগ দিতে চান। একই সঙ্গে তরুণ ও পরিবর্তনমুখী ভোটারদের একটি অংশ নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির দিকেও ঝুঁকতে পারে। তবে এই অংশ কতটা বড় হবে, তা নির্ভর করবে নির্বাচনী পরিবেশ, প্রার্থী ও প্রচারণার ওপর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আওয়ামী লীগের একটি অংশ হতাশা ও দ্বিধার কারণে ভোটকেন্দ্রে নাও যেতে পারে। দীর্ঘদিন একটি দলের সঙ্গে যুক্ত ভোটারদের জন্য হঠাৎ বিকল্প বেছে নেওয়া সহজ নয়।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের ধারণা, আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক কোনো একক দলে কেন্দ্রীভূত হবে না। বরং তা বিভক্ত হয়ে পড়বে—কিছু যাবে ক্ষমতার সম্ভাব্য ধারায়, কিছু যাবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে, কিছু যাবে বিএনপি, জামায়াত বা এনসিপির দিকে, আর একটি অংশ হয়তো ভোট দেওয়া থেকেই বিরত থাকবে।