রেকর্ড বৃদ্ধির পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস
আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে চূড়ায় ওঠার পর বড় ধরণের দরপতনের মুখে পড়েছে স্বর্ণ। বিনিয়োগকারীরা বাড়তি মুনাফা তুলে নেওয়ার আশায় মজুদ করা স্বর্ণ বিক্রি শুরু করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে দাম কমলেও ১৯৮০-এর দশকের পর স্বর্ণ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৩৩০.২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অথচ দিনের শুরুতে এর দাম ৫ হাজার ৫৯৪.৮২ ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। চূড়ায় ওঠার পর হঠাৎ করেই ৫ শতাংশের বেশি দাম কমে ৫ হাজার ১০৯.৬২ ডলারে নেমে আসে স্বর্ণের দাম।
হাই রিজ ফিউচারসের মেটালস ট্রেডিং পরিচালক ডেভিড মেগার জানান, স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর নাটকীয়ভাবে বিক্রির হিড়িক পড়েছে। বিনিয়োগকারীরা বর্তমান উচ্চ মূল্যে স্বর্ণ বিক্রি করে মুনাফা লুফে নিতে চাইছেন, যার ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়ে দাম কমেছে।
দরপতন হলেও চলতি মাসে এখন পর্যন্ত স্পট সোনার দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউবিএস পূর্বাভাস দিয়েছে যে, চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে স্বর্ণের দাম আউন্স প্রতি ৬২০০ ডলারে উঠতে পারে। তবে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এটি কিছুটা কমে ৫৯০০ ডলারে নামতে পারে।
মূলত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা স্বর্ণের বাজারকে অস্থির করে তুলছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নতুন পরমাণু চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে, তেহরান পাল্টা হুমকির সুর বজায় রেখেছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও আগামী জুনে তা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত সুদের হার কমলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও ২.১ শতাংশ কমে ১১৪.১৪১ ডলারে নেমেছে। যদিও পুরো মাস জুড়ে রুপার দাম ৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এছাড়া প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও ৩ শতাংশের বেশি কমেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণের তহবিল ‘এসপিডিআর গোল্ড ট্রাস্ট’-এর মজুদ এখন চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এতে বোঝা যায়, সাময়িক দরপতন হলেও দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের কদর এখনো কমেনি।